Dhaka ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে বিক্ষোভের তাণ্ডবে প্রাণহানি ৫ হাজার ছাড়াল।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৩:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২৪ Time View

ইরানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ও সহিংসতায় কমপক্ষে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করা হয়েছে, যারা ‘নিরীহ’ নাগরিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ ও সর্বাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, সড়কে নেমে বিক্ষোভকারীদের সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে ইসরায়েল এবং বিদেশে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী। তবে তার মতে, মৃতের সংখ্যা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ডিসেম্বর। তেহরানের বিভিন্ন বাজারে অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ছোট ছোট প্রতিবাদ ধীরে ধীরে বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশটির তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ জনগণ মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের মূল্যহ্রাসকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে উত্তেজিত।

পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয় বৃহস্পতিবার, যখন ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দেন। এর পর রাস্তা জনসমুদ্রে পরিণত হয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বহু মানুষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারি দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করা হচ্ছে। দেশটি বলছে, বিদেশি প্রভাবিত সন্ত্রাসীরা আন্দোলন দখল করার চেষ্টা করছে।

এর আগে একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় শত শত মানুষ নিহত এবং হাজার হাজারকে আটক করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা
Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইরানে বিক্ষোভের তাণ্ডবে প্রাণহানি ৫ হাজার ছাড়াল।

Update Time : ১১:৪৩:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ও সহিংসতায় কমপক্ষে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করা হয়েছে, যারা ‘নিরীহ’ নাগরিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ ও সর্বাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, সড়কে নেমে বিক্ষোভকারীদের সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে ইসরায়েল এবং বিদেশে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী। তবে তার মতে, মৃতের সংখ্যা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ডিসেম্বর। তেহরানের বিভিন্ন বাজারে অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ছোট ছোট প্রতিবাদ ধীরে ধীরে বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশটির তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ জনগণ মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের মূল্যহ্রাসকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে উত্তেজিত।

পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয় বৃহস্পতিবার, যখন ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দেন। এর পর রাস্তা জনসমুদ্রে পরিণত হয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বহু মানুষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারি দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করা হচ্ছে। দেশটি বলছে, বিদেশি প্রভাবিত সন্ত্রাসীরা আন্দোলন দখল করার চেষ্টা করছে।

এর আগে একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় শত শত মানুষ নিহত এবং হাজার হাজারকে আটক করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা