Dhaka ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বৈঠক গ্যাস অনুসন্ধানে শেভরনকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ

ইলিয়াস আলী গুমের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর ট্রাইব্যুনালে

বিএনপির সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি এম. ইলিয়াস আলীকে গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

রোববার সকালে একটি মাইক্রোবাসে করে সাইফুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় রাখা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের দেওয়া জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।

এরপর গত ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) সাইফুর রহমানকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখে।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বিএনপির অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সময় বিমানবাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম গত ৯ আগস্ট বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তারা মনে করছেন।

ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ  নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁয় গুলিতে বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত, আহত ১

দীর্ঘদিন ধরে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর পরিবার ও বিএনপি তদন্ত এবং তাঁর সন্ধানের দাবি জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাইফুর রহমানকে হাজির করার মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বৈঠক

ইলিয়াস আলী গুমের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর ট্রাইব্যুনালে

Update Time : ০৩:২০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপির সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি এম. ইলিয়াস আলীকে গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

রোববার সকালে একটি মাইক্রোবাসে করে সাইফুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় রাখা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের দেওয়া জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।

এরপর গত ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) সাইফুর রহমানকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখে।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বিএনপির অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সময় বিমানবাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম গত ৯ আগস্ট বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তারা মনে করছেন।

ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ  খলনায়ক ডনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

দীর্ঘদিন ধরে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর পরিবার ও বিএনপি তদন্ত এবং তাঁর সন্ধানের দাবি জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাইফুর রহমানকে হাজির করার মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল।