Dhaka ১০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কতদিন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে রূপপুর থেকে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৭ Time View

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে আজ। এতে দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন মাইলফলক তৈরি হবে, পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে এই প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতীক। 

তবে টেকসই উন্নয়নের প্রতীক এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কতদিন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে এমন প্রশ্নে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। এই সময়ে এখান থেকে পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। তবে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত কেন্দ্রটির আয়ু বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রটিতে একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে চলবে টানা দেড় বছর। ফলে অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা কেনার ঝক্কি-ঝামেলা নেই। দেড় বছর পর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। আর্থিক বিবেচনায় বাংলাদেশের একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করছে রাশিয়া। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। 

জানা যায়, রূপপুরে ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএর নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়।পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. প্রীতম কুমার দাসের মতে, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মান- মেনে চলা ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়, বাধ্যতামূলক। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রটোকলগুলো এতটাই নিচ্ছিদ্র যে, সামান্যতম বিচ্যুতি ঘটলে পুরো প্রকল্প সেখানেই থমকে যেতে পারে। এতে বিশাল অঙ্কের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করার প্রক্রিয়াই আটকে যাবে। রূপপুরের এই দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ মূলত নির্ভর করছে ‘জিরো এরর বা শূন্য ত্রুটি নীতির ওপর। 

আরও পড়ুনঃ  বিশ্ববাজারে ডলারের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

রাশিয়ার ‘ফাস্ট নিউট্রন’ প্রযুক্তির উদাহরণ দিয়ে রূপপুরের ব্যবহৃত জ্বালানি বা বর্জ্যকেও পুনরায় ব্যবহারের সম্ভাবনা জানান ড. প্রীতম। তিনি মনে করেন, ব্যবহৃত ইউরেনিয়ামের উপজাত বা ওয়েস্ট থেকে ভবিষ্যতে আবারও জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে, যা ভারত ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো সফলভাবে পরীক্ষা করছে। সেটি সম্ভব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ আরো কমে আসবে।

পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক থাকলেও আধুনিক বাস্তবতায় এটি এখন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত। কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি হওয়ায় এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় বছরে ২০ মিলিয়ন টন এবং গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় ৮ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কতদিন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে রূপপুর থেকে

Update Time : ০১:৪৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে আজ। এতে দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন মাইলফলক তৈরি হবে, পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে এই প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতীক। 

তবে টেকসই উন্নয়নের প্রতীক এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কতদিন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে এমন প্রশ্নে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। এই সময়ে এখান থেকে পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। তবে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত কেন্দ্রটির আয়ু বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রটিতে একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে চলবে টানা দেড় বছর। ফলে অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা কেনার ঝক্কি-ঝামেলা নেই। দেড় বছর পর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। আর্থিক বিবেচনায় বাংলাদেশের একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করছে রাশিয়া। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। 

জানা যায়, রূপপুরে ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএর নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়।পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. প্রীতম কুমার দাসের মতে, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মান- মেনে চলা ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়, বাধ্যতামূলক। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রটোকলগুলো এতটাই নিচ্ছিদ্র যে, সামান্যতম বিচ্যুতি ঘটলে পুরো প্রকল্প সেখানেই থমকে যেতে পারে। এতে বিশাল অঙ্কের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করার প্রক্রিয়াই আটকে যাবে। রূপপুরের এই দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ মূলত নির্ভর করছে ‘জিরো এরর বা শূন্য ত্রুটি নীতির ওপর। 

আরও পড়ুনঃ  জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিতে গোয়াইনঘাট সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি

রাশিয়ার ‘ফাস্ট নিউট্রন’ প্রযুক্তির উদাহরণ দিয়ে রূপপুরের ব্যবহৃত জ্বালানি বা বর্জ্যকেও পুনরায় ব্যবহারের সম্ভাবনা জানান ড. প্রীতম। তিনি মনে করেন, ব্যবহৃত ইউরেনিয়ামের উপজাত বা ওয়েস্ট থেকে ভবিষ্যতে আবারও জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে, যা ভারত ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো সফলভাবে পরীক্ষা করছে। সেটি সম্ভব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ আরো কমে আসবে।

পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক থাকলেও আধুনিক বাস্তবতায় এটি এখন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত। কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি হওয়ায় এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় বছরে ২০ মিলিয়ন টন এবং গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় ৮ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করবে।