Dhaka ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বৈঠক গ্যাস অনুসন্ধানে শেভরনকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ

কানাইঘাটে ভারতফেরত নারীকে ১০ দিন আটকে রেখে ধ র্ষ ণ, গ্রেপ্তার ১

সিলেটের কানাইঘাটে ভারত থেকে আসা ২২ বছর বয়সী এক নারীকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর মামলার দ্বিতীয় আসামি নাঈম উদ্দিনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কানাইঘাট থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার নাঈম উদ্দিন উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের দনা পাত্তিছড়া গ্রামের আব্দুর রহমান ডালু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী শেরপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। প্রায় ৯ মাস আগে তিনি নিজ বাড়ি থেকে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতে যান। পরে ভারতের হায়দ্রাবাদে গিয়ে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।

গত ২০ আগস্ট জাহাঙ্গীর নামে তার এক মামার সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে হায়দ্রাবাদ থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী নন্দনপুর এলাকায় আসেন তিনি। সেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তার মামা জাহাঙ্গীরকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় ওই নারী কান্নাকাটি করলে বিএসএফ তাকে কানাইঘাটের দনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে কানাইঘাটের দনা পাত্তিছড়া এলাকায় ওই নারীর সঙ্গে কয়েকজনের দেখা হয়। তারা তাকে নিজ বাড়ি শেরপুরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে শানুর আহমদের একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সেখানে তাকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে কয়েকজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম মেম্বারের সহায়তায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগী নারী কানাইঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় শানুর আহমদ (৩০), নাঈম উদ্দিন (২২), কাওছার আহমদ (৩০), হুসাইন আহমদ (২৪), রিয়াজ উদ্দিন (৩০) ও ইকবাল আহমদ (২৮)-কে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রাক্ষস’-এর ট্রেলারে ভয়ঙ্কর সিয়াম, পাওয়া গেলো জিল্লুকেও

মামলা দায়েরের পর কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় বুধবার ভোরে দুর্গম পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী দনা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে নাঈম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার নাঈমকে বুধবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ভুক্তভোগী নারীকে পুলিশ হেফাজতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বৈঠক

কানাইঘাটে ভারতফেরত নারীকে ১০ দিন আটকে রেখে ধ র্ষ ণ, গ্রেপ্তার ১

Update Time : ০২:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটের কানাইঘাটে ভারত থেকে আসা ২২ বছর বয়সী এক নারীকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর মামলার দ্বিতীয় আসামি নাঈম উদ্দিনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কানাইঘাট থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার নাঈম উদ্দিন উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের দনা পাত্তিছড়া গ্রামের আব্দুর রহমান ডালু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী শেরপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। প্রায় ৯ মাস আগে তিনি নিজ বাড়ি থেকে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতে যান। পরে ভারতের হায়দ্রাবাদে গিয়ে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।

গত ২০ আগস্ট জাহাঙ্গীর নামে তার এক মামার সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে হায়দ্রাবাদ থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী নন্দনপুর এলাকায় আসেন তিনি। সেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তার মামা জাহাঙ্গীরকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় ওই নারী কান্নাকাটি করলে বিএসএফ তাকে কানাইঘাটের দনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে কানাইঘাটের দনা পাত্তিছড়া এলাকায় ওই নারীর সঙ্গে কয়েকজনের দেখা হয়। তারা তাকে নিজ বাড়ি শেরপুরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে শানুর আহমদের একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সেখানে তাকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে কয়েকজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম মেম্বারের সহায়তায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগী নারী কানাইঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় শানুর আহমদ (৩০), নাঈম উদ্দিন (২২), কাওছার আহমদ (৩০), হুসাইন আহমদ (২৪), রিয়াজ উদ্দিন (৩০) ও ইকবাল আহমদ (২৮)-কে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নিহত ৯ বাংলাদেশিরা গিয়েছিলেন সবাই চিকিৎসার জন্য

মামলা দায়েরের পর কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় বুধবার ভোরে দুর্গম পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী দনা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে নাঈম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার নাঈমকে বুধবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ভুক্তভোগী নারীকে পুলিশ হেফাজতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।