Dhaka ০১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌযানে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৬ Time View

ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজামুখী মানবিক সহায়তা নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-কে সশস্ত্র তল্লাশি চালিয়ে আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। আয়োজক এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ড্রোন এবং যোগাযোগ ব্যাহত করার (জ্যামিং) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাঝপথেই নৌযানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সহায়তা মিশন এই তথ্য নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সহায়তা মিশন জানিয়েছে, সামরিক স্পিডবোট নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী নৌযানগুলোর কাছে আসে। আয়োজকদের মতে, লেজার ও সেমি-অটোমেটিক অ্যাসল্ট অস্ত্র তাক করে তারা অংশগ্রহণকারীদের নৌযানের সামনের দিকে গিয়ে হাত ও হাঁটু মাটিতে রেখে বসার নির্দেশ দেয়। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফ্লোটিলাটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক নৌযানগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেআইনিভাবে নৌবহরটিকে ঘিরে ফেলেছে। এ সময় তাদের অপহরণ ও সহিংসতার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল আর্মি রেডিও জানিয়েছে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছাকাছি ফ্লোটিলার ৫৮টি নৌযানের মধ্যে ৭টিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে আয়োজকরা জানিয়েছেন, তাদের ১১টি নৌযানের সাথে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। 

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই নৌবহরে ৪০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মুখপাত্র গুর সাবার কানাডার টরন্টো থেকে আল জাজিরাকে জানান, ইসরায়েল থেকে শত শত মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটি বেআইনি। এই জলসীমায় ইসরায়েলের কোনো এখতিয়ার নেই। এই নৌযানগুলোতে ওঠা বেআইনি আটকের শামিল—যা মূলত গভীর সমুদ্রে সম্ভাব্য অপহরণ। এই মুহূর্তে নীরব থাকার অর্থ হলো পুরোপুরি এই অপরাধের সহযোগী হওয়া। 

তিনি নৌবহরে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় সব দেশের সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই অভিযানকে সমর্থন করে বলেন, ফ্লোটিলাটিকে আমাদের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সৈন্যরা বিভ্রান্ত ও মনোযোগ আকর্ষণকারী একদল উস্কানিদাতার সাথে দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করছে। 

আরও পড়ুনঃ  লেবাননের ৫০ গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ ইসরায়েলের

একাধিক দেশের কর্মীদের বহনকারী ৫০টিরও বেশি নৌযান রোববার ইতালি থেকে গাজা উপত্যকার উদ্দেশে যাত্রা করে। আয়োজকরা এটিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে পৌঁছানোর চেষ্টাকারী বৃহত্তম মানবিক সহায়তার নৌবহর বলে উল্লেখ করেছেন। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৫৯৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৪১১ জন আহত হয়েছেন। 

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌযানে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান

Update Time : ১২:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজামুখী মানবিক সহায়তা নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-কে সশস্ত্র তল্লাশি চালিয়ে আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। আয়োজক এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ড্রোন এবং যোগাযোগ ব্যাহত করার (জ্যামিং) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাঝপথেই নৌযানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সহায়তা মিশন এই তথ্য নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সহায়তা মিশন জানিয়েছে, সামরিক স্পিডবোট নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী নৌযানগুলোর কাছে আসে। আয়োজকদের মতে, লেজার ও সেমি-অটোমেটিক অ্যাসল্ট অস্ত্র তাক করে তারা অংশগ্রহণকারীদের নৌযানের সামনের দিকে গিয়ে হাত ও হাঁটু মাটিতে রেখে বসার নির্দেশ দেয়। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফ্লোটিলাটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক নৌযানগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেআইনিভাবে নৌবহরটিকে ঘিরে ফেলেছে। এ সময় তাদের অপহরণ ও সহিংসতার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল আর্মি রেডিও জানিয়েছে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছাকাছি ফ্লোটিলার ৫৮টি নৌযানের মধ্যে ৭টিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে আয়োজকরা জানিয়েছেন, তাদের ১১টি নৌযানের সাথে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। 

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই নৌবহরে ৪০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মুখপাত্র গুর সাবার কানাডার টরন্টো থেকে আল জাজিরাকে জানান, ইসরায়েল থেকে শত শত মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটি বেআইনি। এই জলসীমায় ইসরায়েলের কোনো এখতিয়ার নেই। এই নৌযানগুলোতে ওঠা বেআইনি আটকের শামিল—যা মূলত গভীর সমুদ্রে সম্ভাব্য অপহরণ। এই মুহূর্তে নীরব থাকার অর্থ হলো পুরোপুরি এই অপরাধের সহযোগী হওয়া। 

তিনি নৌবহরে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় সব দেশের সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই অভিযানকে সমর্থন করে বলেন, ফ্লোটিলাটিকে আমাদের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সৈন্যরা বিভ্রান্ত ও মনোযোগ আকর্ষণকারী একদল উস্কানিদাতার সাথে দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করছে। 

আরও পড়ুনঃ  লেবাননের ৫০ গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ ইসরায়েলের

একাধিক দেশের কর্মীদের বহনকারী ৫০টিরও বেশি নৌযান রোববার ইতালি থেকে গাজা উপত্যকার উদ্দেশে যাত্রা করে। আয়োজকরা এটিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে পৌঁছানোর চেষ্টাকারী বৃহত্তম মানবিক সহায়তার নৌবহর বলে উল্লেখ করেছেন। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৫৯৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৪১১ জন আহত হয়েছেন।