Dhaka ০১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ‘ডেভিড ইমন’

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। রোববার (২ আগস্ট) আদালতের নির্দেশে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের মজুত এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তাধীন এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা অস্ত্র ও হত্যা মামলায় আদালত ডেভিড ইমনের পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রোববার চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, আলোচিত জামাল হত্যা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে প্রতিটি মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তার আরও চার সহযোগীরও পাঁচ দিনের রিমান্ড অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশের পর ডেভিড ইমনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং প্রাপ্ত তথ্য তদন্তের স্বার্থে যাচাই করা হচ্ছে।
মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ওরফে ডেভিড ইমন (২৫) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ভাষ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে ডেভিড ইমনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ভোরে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং আরও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ জানান, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া সব তথ্য তদন্তের অংশ। সেগুলোর সত্যতা যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাথরুম থেকে পুলিশের এএসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ‘ডেভিড ইমন’

Update Time : ১১:৪১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। রোববার (২ আগস্ট) আদালতের নির্দেশে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের মজুত এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তাধীন এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা অস্ত্র ও হত্যা মামলায় আদালত ডেভিড ইমনের পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রোববার চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, আলোচিত জামাল হত্যা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে প্রতিটি মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তার আরও চার সহযোগীরও পাঁচ দিনের রিমান্ড অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশের পর ডেভিড ইমনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং প্রাপ্ত তথ্য তদন্তের স্বার্থে যাচাই করা হচ্ছে।
মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ওরফে ডেভিড ইমন (২৫) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ভাষ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে ডেভিড ইমনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ভোরে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং আরও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ জানান, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া সব তথ্য তদন্তের অংশ। সেগুলোর সত্যতা যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাথরুম থেকে পুলিশের এএসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার