Dhaka ০২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ছবিটা আর মা বলে ডাকে না’—দুই বছরেও মেলেনি বিচার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষার্থী নজিবুল সরকার বিশালের মৃত্যুর দুই বছর পরও তার পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

নজিবুল সরকার বিশাল জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পাঁচবিবি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জয়পুরহাট শহরের পাঁচুর মোড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর তার বাবা মজিদুল সরকার বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের প্রয়োজনে আদালতের নির্দেশে দাফনের কিছুদিন পর মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তও করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা হতাশ।

বিশালের বাবা মজিদুল সরকার বলেন, মামলার বিচার দ্রুত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক। তার ভাষ্য, শুধু তার ছেলের নয়, জুলাই আন্দোলনে নিহত সব মানুষের পরিবারের জন্যই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া উচিত।

মা বুলবুলি খাতুন বলেন, বিশাল পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও ভাগ করে নিতে চাইতেন। অবসর সময়ে শ্রমের কাজ করে উপার্জিত অর্থ পরিবারের হাতে তুলে দিতেন। তার সেই স্মৃতিই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।

পরিবার জানায়, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি নতুন বাড়ি পেলেও সন্তানকে হারানোর শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তারা আশা করছেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার একদিন তাদের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

আরও পড়ুনঃ  ড্যাব এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

‘ছবিটা আর মা বলে ডাকে না’—দুই বছরেও মেলেনি বিচার

Update Time : ১১:৫০:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষার্থী নজিবুল সরকার বিশালের মৃত্যুর দুই বছর পরও তার পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

নজিবুল সরকার বিশাল জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পাঁচবিবি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জয়পুরহাট শহরের পাঁচুর মোড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর তার বাবা মজিদুল সরকার বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের প্রয়োজনে আদালতের নির্দেশে দাফনের কিছুদিন পর মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তও করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা হতাশ।

বিশালের বাবা মজিদুল সরকার বলেন, মামলার বিচার দ্রুত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক। তার ভাষ্য, শুধু তার ছেলের নয়, জুলাই আন্দোলনে নিহত সব মানুষের পরিবারের জন্যই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া উচিত।

মা বুলবুলি খাতুন বলেন, বিশাল পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও ভাগ করে নিতে চাইতেন। অবসর সময়ে শ্রমের কাজ করে উপার্জিত অর্থ পরিবারের হাতে তুলে দিতেন। তার সেই স্মৃতিই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।

পরিবার জানায়, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি নতুন বাড়ি পেলেও সন্তানকে হারানোর শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তারা আশা করছেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার একদিন তাদের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

আরও পড়ুনঃ  এবার এসএসসিতে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী ফেল