Dhaka ০৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে জন্মাষ্টমীর আয়োজনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সজাগ থাকবে পুলিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার সিলেটে আসছেন হুমায়ুন কবির দুই দিনের সফরে ৬ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি এবার দুদকের বিরুদ্ধেই মামলার হুমকি আসিফ মাহমুদের সিলেটসহ পাঁচ জেলার ডিসি-এসপিকে আইনি নোটিশ সিলেটে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর ৪ দিনের অনশন জগন্নাথপুরে যোগ দিয়েই ‘অনুমতি ছাড়া কথা নয়’, বললেন কর্মকর্তা তুলি নিখোঁজ একমাত্র ছেলেকে খুঁজতে ২ হাজার রুপি ধার, দুর্গম পাহাড়ে বাবার হাহাকার শ্রীমঙ্গলে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকচালক নিহত ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন মৌলভীবাজার-৩ এমপি নাসের রহমান

‘তৌহিদী জনতার’ বাধা উপক্ষো করে বিয়ানীবাজারে জমজমাট নৌকাবাইচ

আপত্তি আর বাধা উপক্ষো করে অবশেষে সিলেটের বিয়ানীবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীতে এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

বাইচ দেখতে দুপুর থেকেই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী নদীর দুই তীরে ভীড় করেন। বাইচ শেষে সন্ধ্যায় সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন।

জানা গেছে, লাউতা ইউনিয়নের লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মত এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তবে এবার বাইচ আয়োজনে আপত্তি জানায় স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতা’।

‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি গোষ্ঠী এই প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে। এছাড়া বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে এক সভা করে প্রতিযোগিতাটি বাতিল করার দাবি করে তারা।

এরপর ২২ আগস্ট দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বৈঠক শেষে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর যথাসময়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তবে তারা আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে আর নৌকাবাইচ আয়োজন করবে না।

তবে শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই তীরে হাজারো উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। বাধার কারণে এ আয়োজনটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়ে ওঠে। ফলে দুর দূরান্ত থেকেও অনেকে এই বাইচ দেখতে জড়ো হন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিয়ানবাজার থানা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নদী তীরবর্তী এলাকায় নিয়োজিত ছিল।

বিকেলে নানা রঙ বেরঙে সজ্জিত নৌকা দিয়ে বাইচ শুরু হয়। বাইচে ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ এবং ‘পাগলা নাও’ এমন বাহারি নামের নৌকা অংশ নেয়। ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘নাও ছাড়িয়া দে, পাল উড়াইয়া দে’ এমন নানা গান গেয়ে গেছে মাঝিমাল্লারা বাইচকে আরও জমিয়ে তুলেন।

আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, বাধা সত্ত্বেও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর বাইচ দেখতে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  বিদায়ী সংবর্ধনার সময় আবেগপ্রবণ রুবেল, বিশেষ স্মরণ ৩ ব্যক্তিকে

তিনি বলেন, আগামীতে বাইচ হবে কী না তা স্থানীয় জনতাই সিদ্ধান্ত নেবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে জন্মাষ্টমীর আয়োজনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সজাগ থাকবে পুলিশ

‘তৌহিদী জনতার’ বাধা উপক্ষো করে বিয়ানীবাজারে জমজমাট নৌকাবাইচ

Update Time : ১২:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

আপত্তি আর বাধা উপক্ষো করে অবশেষে সিলেটের বিয়ানীবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীতে এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

বাইচ দেখতে দুপুর থেকেই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী নদীর দুই তীরে ভীড় করেন। বাইচ শেষে সন্ধ্যায় সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন।

জানা গেছে, লাউতা ইউনিয়নের লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মত এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তবে এবার বাইচ আয়োজনে আপত্তি জানায় স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতা’।

‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি গোষ্ঠী এই প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে। এছাড়া বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে এক সভা করে প্রতিযোগিতাটি বাতিল করার দাবি করে তারা।

এরপর ২২ আগস্ট দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বৈঠক শেষে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর যথাসময়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তবে তারা আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে আর নৌকাবাইচ আয়োজন করবে না।

তবে শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই তীরে হাজারো উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। বাধার কারণে এ আয়োজনটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়ে ওঠে। ফলে দুর দূরান্ত থেকেও অনেকে এই বাইচ দেখতে জড়ো হন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিয়ানবাজার থানা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নদী তীরবর্তী এলাকায় নিয়োজিত ছিল।

বিকেলে নানা রঙ বেরঙে সজ্জিত নৌকা দিয়ে বাইচ শুরু হয়। বাইচে ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ এবং ‘পাগলা নাও’ এমন বাহারি নামের নৌকা অংশ নেয়। ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘নাও ছাড়িয়া দে, পাল উড়াইয়া দে’ এমন নানা গান গেয়ে গেছে মাঝিমাল্লারা বাইচকে আরও জমিয়ে তুলেন।

আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, বাধা সত্ত্বেও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর বাইচ দেখতে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  তিন ঘণ্টার প্যারোলে মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

তিনি বলেন, আগামীতে বাইচ হবে কী না তা স্থানীয় জনতাই সিদ্ধান্ত নেবে।