Dhaka ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা ৩৩ কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচ্ছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে নবনিযুক্ত প্রসিকিউটরদের যোগদান এক দফা দাবিতে এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা আমার নোবেল পাওয়া উচিত, কিন্তু তারা দেবে কি না জানি না: ট্রাম্প বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান রেলস্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চুরি কঠিন শর্তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও চাকরি হয়নি ক্লীন্টনের, নদীভাঙনে হারিয়েছেন স্থায়ী ঠিকানা পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

দালালকে ৩১ লাখ টাকা দিয়েও ফেরেনি ছেলে, লাশের অপেক্ষায় বৃদ্ধা মা

বৈধ পথে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মাদারীপুরের এক যুবককে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে মানবপাচারকারী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দালালদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

প্রায় ৩১ লাখ টাকা খরচ করেও সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করতে না পেরে এখন তাঁর লাশের অপেক্ষায় দিন কাটছে বৃদ্ধা মা কুট্টি বিবির। শনিবার সকালে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মঠেরবার এলাকায় অভিযুক্ত দেলোয়ার সরদার, তাঁর স্ত্রী সোহাগী বেগম, সুমন সরদার ও সিমু আক্তারের বিচারের দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর এলাকার মাসুম আকন (২৫)কে বৈধ ভিসায় ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ২৫ লাখ টাকায় চুক্তি করেন স্থানীয় দালাল দেলোয়ার সরদার, তাঁর স্ত্রী সোহাগী বেগম ও সুমন সরদার।

চুক্তি অনুযায়ী পরিবারের কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মাসুমকে বিদেশে পাঠানো হয়। তবে ইতালিতে নেওয়ার পরিবর্তে তাঁকে সৌদি আরব ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। পরে সেখানে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।

পরিবারের দাবি, মুক্তিপণ হিসেবে নড়াইলের একটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আরও ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপরও আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে না পারায় মাসুমের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

সব মিলিয়ে ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ করেও ছেলেকে ফিরে না পেয়ে এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন মা কুট্টি বিবি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদেশে পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তাঁদের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে মানবপাচারকারী চক্র। মাসুমকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  শি শু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক আটক

তাঁরা আরও বলেন, মাসুমের পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অর্থের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানবপাচার মামলায় দেলোয়ারসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত চলছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা

দালালকে ৩১ লাখ টাকা দিয়েও ফেরেনি ছেলে, লাশের অপেক্ষায় বৃদ্ধা মা

Update Time : ০৪:৫৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৈধ পথে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মাদারীপুরের এক যুবককে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে মানবপাচারকারী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দালালদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

প্রায় ৩১ লাখ টাকা খরচ করেও সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করতে না পেরে এখন তাঁর লাশের অপেক্ষায় দিন কাটছে বৃদ্ধা মা কুট্টি বিবির। শনিবার সকালে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মঠেরবার এলাকায় অভিযুক্ত দেলোয়ার সরদার, তাঁর স্ত্রী সোহাগী বেগম, সুমন সরদার ও সিমু আক্তারের বিচারের দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর এলাকার মাসুম আকন (২৫)কে বৈধ ভিসায় ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ২৫ লাখ টাকায় চুক্তি করেন স্থানীয় দালাল দেলোয়ার সরদার, তাঁর স্ত্রী সোহাগী বেগম ও সুমন সরদার।

চুক্তি অনুযায়ী পরিবারের কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মাসুমকে বিদেশে পাঠানো হয়। তবে ইতালিতে নেওয়ার পরিবর্তে তাঁকে সৌদি আরব ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। পরে সেখানে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।

পরিবারের দাবি, মুক্তিপণ হিসেবে নড়াইলের একটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আরও ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপরও আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে না পারায় মাসুমের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

সব মিলিয়ে ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ করেও ছেলেকে ফিরে না পেয়ে এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন মা কুট্টি বিবি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদেশে পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তাঁদের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে মানবপাচারকারী চক্র। মাসুমকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহত, ৯ লাখ টাকায় আপস

তাঁরা আরও বলেন, মাসুমের পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অর্থের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানবপাচার মামলায় দেলোয়ারসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত চলছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।