Dhaka ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ২ জন এবার জাপানে বড় ধরনের পাহাড় ধসের শঙ্কা, সতর্কতা জারি পুকুর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সক্রিয় গ্রেনেড উদ্ধার ‘ইগো-অহংকারের কাছে জাতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া ঠিক নয়’: শিশির মনির দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর, তালাবদ্ধ ঘর থেকে ৩ মরদেহ উদ্ধার ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্ধ হতে পারে ৪ কোটি গ্রাহকের সিম লা.শ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শি.শুসহ আহত ৮ সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে যুবকের গলা কা টা লা শ উদ্ধার দালালকে ৩১ লাখ টাকা দিয়েও ফেরেনি ছেলে, লাশের অপেক্ষায় বৃদ্ধা মা

প্রেম নয়, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড়ে চুরি; ধরা পড়ে একে একে তিন খুন!

সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় তিনজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তিনি জবানবন্দি দেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান জানান, বাবুল নিজে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দির কপি গণমাধ্যমের হাতে না আসায় বিস্তারিত জানা যায়নি।

পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় ঢুকেছিলেন বাবুল। সেখানে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের কাছে ধরা পড়ার পর নিজের অপরাধ আড়াল করতে একে একে তাহমিনা, গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, তিনজনকে হত্যার পর বাবুল বাথরুমে গিয়ে শরীর, পোশাক ও ছুরিতে থাকা রক্ত পরিষ্কার করেন। পরে বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব তল্লাশি করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। ওই টাকা তিনি বাসা ভাড়ার জন্য ব্যবহার করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সকাল ৯টা ২৬ মিনিটের পর বাবুলকে বাসায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় মূল গেটের ক্যামেরায় বের হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েনি। তবে পাশের ৮৩ নম্বর বাসার আইপিএস-সংযুক্ত ক্যামেরায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর বাবুলকে টিভি গেটের গলি দিয়ে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায়।

পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর হাতে বারবার তাকানোর দৃশ্য ফুটেজে ধরা পড়ে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর হাত ও আঙুলে আঘাতের চিহ্ন এবং ব্যান্ডেজ ছিল। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি কোথায় ফেলেছেন বলে বাবুল জানালেও এখনো সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গ্রেপ্তারের পর বাবুল পুলিশকে হত্যাকাণ্ডের ভিন্ন একটি কারণের কথা বলেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ঘটনার দিন শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে ওই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পুলিশও প্রেমের সম্পর্কের দাবি থেকে সরে এসে বাবুলের সঙ্গে তাহমিনার পরিচিতির কথা জানায়।

আরও পড়ুনঃ  মতবিনিময়ে এহছানুল হক মিলন শিক্ষার প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে শিক্ষকদের

এদিকে নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে সিলেট বারের আইনজীবী সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামতসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবুলকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। এখন আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি যাচাই-বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও অন্য কোনো মোটিভ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ২ জন

প্রেম নয়, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড়ে চুরি; ধরা পড়ে একে একে তিন খুন!

Update Time : ১১:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় তিনজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তিনি জবানবন্দি দেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান জানান, বাবুল নিজে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দির কপি গণমাধ্যমের হাতে না আসায় বিস্তারিত জানা যায়নি।

পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় ঢুকেছিলেন বাবুল। সেখানে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের কাছে ধরা পড়ার পর নিজের অপরাধ আড়াল করতে একে একে তাহমিনা, গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, তিনজনকে হত্যার পর বাবুল বাথরুমে গিয়ে শরীর, পোশাক ও ছুরিতে থাকা রক্ত পরিষ্কার করেন। পরে বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব তল্লাশি করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। ওই টাকা তিনি বাসা ভাড়ার জন্য ব্যবহার করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সকাল ৯টা ২৬ মিনিটের পর বাবুলকে বাসায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় মূল গেটের ক্যামেরায় বের হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েনি। তবে পাশের ৮৩ নম্বর বাসার আইপিএস-সংযুক্ত ক্যামেরায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর বাবুলকে টিভি গেটের গলি দিয়ে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায়।

পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর হাতে বারবার তাকানোর দৃশ্য ফুটেজে ধরা পড়ে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর হাত ও আঙুলে আঘাতের চিহ্ন এবং ব্যান্ডেজ ছিল। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি কোথায় ফেলেছেন বলে বাবুল জানালেও এখনো সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গ্রেপ্তারের পর বাবুল পুলিশকে হত্যাকাণ্ডের ভিন্ন একটি কারণের কথা বলেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ঘটনার দিন শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে ওই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পুলিশও প্রেমের সম্পর্কের দাবি থেকে সরে এসে বাবুলের সঙ্গে তাহমিনার পরিচিতির কথা জানায়।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে ‘পরকীয়ার জেরে’ ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ড

এদিকে নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে সিলেট বারের আইনজীবী সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামতসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবুলকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। এখন আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি যাচাই-বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও অন্য কোনো মোটিভ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হবে।