Dhaka ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা ৩৩ কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচ্ছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে নবনিযুক্ত প্রসিকিউটরদের যোগদান এক দফা দাবিতে এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা আমার নোবেল পাওয়া উচিত, কিন্তু তারা দেবে কি না জানি না: ট্রাম্প বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান রেলস্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চুরি কঠিন শর্তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও চাকরি হয়নি ক্লীন্টনের, নদীভাঙনে হারিয়েছেন স্থায়ী ঠিকানা পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩

গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় একটি মাদরাসায় দুই কিশোর শিক্ষার্থীকে মারধর এবং গরম লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা পৃথক দুটি মামলায় মাদরাসার পরিচালকসহ তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাছা থানার পশ্চিম ঝাঝড় (সাক্রাউরী) এলাকার আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়ায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থীর বয়স ১৩ বছর। তারা ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক মাওলানা শোয়াইব হোসেন (২৬), শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান (২৬) এবং শিক্ষক শাহিন (১৯)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাদরাসার মাঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী খেলাধুলা করছিল। এ সময় বায়েজীদ নামে এক শিক্ষার্থীর পায়জামা অসাবধানতাবশত খুলে যায়। বিষয়টি কেন্দ্র করে মাদরাসার পরিচালক শোয়াইব হোসেন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে আরও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। মামলার এজাহারে তাকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর এবং গরম লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরের একটি অংশে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

একই ঘটনায় আরেক শিক্ষার্থী বোরহান আলীকেও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তার পরিবারের অভিযোগ, তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে তার মুখে টেপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় গরম লোহার খুন্তি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। পরে বাড়িতে ফেরার পর একজন শিক্ষার্থীর শরীরে পোড়ার চিহ্ন দেখতে পান তার বাবা।

বায়েজীদের বাবা জানান, ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তার ছেলে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরে। তখন তাকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও বসতে দেখা যাচ্ছিল না। কারণ জানতে চাইলে ছেলে শরীরে সমস্যার কথা জানায়। পরে শরীরে ওষুধ লাগানোর সময় পোড়ার দাগ দেখতে পান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটের ১৯৫০-এর দশকের ফুটবল তারকা রণজিৎ দাসের মৃত্যু

অন্যদিকে বোরহানের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে তার বাবা ছেলেকে দেখতে মাদরাসায় গেলে তাকে অন্য শাখায় পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, বোরহান গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এরপর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে গাছা থানায় পৃথক মামলা করা হয়। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ মাদরাসার পরিচালক ও দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানান, বায়েজীদের পরিবারের করা মামলায় মাদরাসার পরিচালক শোয়াইব হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে বোরহানের পরিবারের করা মামলায় শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও শাহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, দুই কিশোর শিক্ষার্থীকে এ ধরনের নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা

মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩

Update Time : ০১:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় একটি মাদরাসায় দুই কিশোর শিক্ষার্থীকে মারধর এবং গরম লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা পৃথক দুটি মামলায় মাদরাসার পরিচালকসহ তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাছা থানার পশ্চিম ঝাঝড় (সাক্রাউরী) এলাকার আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়ায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থীর বয়স ১৩ বছর। তারা ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক মাওলানা শোয়াইব হোসেন (২৬), শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান (২৬) এবং শিক্ষক শাহিন (১৯)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাদরাসার মাঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী খেলাধুলা করছিল। এ সময় বায়েজীদ নামে এক শিক্ষার্থীর পায়জামা অসাবধানতাবশত খুলে যায়। বিষয়টি কেন্দ্র করে মাদরাসার পরিচালক শোয়াইব হোসেন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে আরও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। মামলার এজাহারে তাকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর এবং গরম লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরের একটি অংশে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

একই ঘটনায় আরেক শিক্ষার্থী বোরহান আলীকেও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তার পরিবারের অভিযোগ, তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে তার মুখে টেপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় গরম লোহার খুন্তি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। পরে বাড়িতে ফেরার পর একজন শিক্ষার্থীর শরীরে পোড়ার চিহ্ন দেখতে পান তার বাবা।

বায়েজীদের বাবা জানান, ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তার ছেলে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরে। তখন তাকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও বসতে দেখা যাচ্ছিল না। কারণ জানতে চাইলে ছেলে শরীরে সমস্যার কথা জানায়। পরে শরীরে ওষুধ লাগানোর সময় পোড়ার দাগ দেখতে পান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কিত সাক্ষাৎকার প্রকাশ 

অন্যদিকে বোরহানের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে তার বাবা ছেলেকে দেখতে মাদরাসায় গেলে তাকে অন্য শাখায় পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, বোরহান গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এরপর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে গাছা থানায় পৃথক মামলা করা হয়। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ মাদরাসার পরিচালক ও দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানান, বায়েজীদের পরিবারের করা মামলায় মাদরাসার পরিচালক শোয়াইব হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে বোরহানের পরিবারের করা মামলায় শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও শাহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, দুই কিশোর শিক্ষার্থীকে এ ধরনের নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা।