Dhaka ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বৈঠক গ্যাস অনুসন্ধানে শেভরনকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ

মেঘভাঙা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

খাগড়াছড়িতে কয়েক ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টিতে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। একই সঙ্গে ডুবে গেছে সড়কের বেশ কিছু অংশ। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন ছড়া-খাল ও নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি উপচে আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে ঢুকে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। দীঘিনালা-কবাখালী সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

নদীর পানি বেড়ে মুসলিমপাড়ার একাংশ, বটতলী, ইসলামপুরসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। অনেক বসতবাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও নারীসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

পানি বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ ঘরের আসবাবপত্র উঁচু স্থানে তুলে রাখছেন। পানির কারণে রান্নাবান্না, চলাচল ও দৈনন্দিন কাজেও দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের বৃষ্টির পর ভোরের দিকে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। প্রথমে সড়ক ও নিচু জমিতে পানি জমলেও পরে তা বসতবাড়ির আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। নদীর পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে হঠাৎ করে ঢল নামায় নিচু এলাকার মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নদী ও ছড়ার কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টির সময় অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সড়ক ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় তাদের দুর্ভোগ প্রতিবছরই বাড়ছে।

আরও পড়ুনঃ  পিএসএল ফাইনাল খেলতে পাকিস্তান যাচ্ছেন নাহিদ রানা

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে নতুন করে আরও কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমানে অনেক এলাকায় পানি কমার অপেক্ষায় রয়েছেন বাসিন্দারা। তবে বৃষ্টি আবারও বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বৈঠক

মেঘভাঙা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

Update Time : ১২:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

খাগড়াছড়িতে কয়েক ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টিতে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। একই সঙ্গে ডুবে গেছে সড়কের বেশ কিছু অংশ। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন ছড়া-খাল ও নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি উপচে আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে ঢুকে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। দীঘিনালা-কবাখালী সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

নদীর পানি বেড়ে মুসলিমপাড়ার একাংশ, বটতলী, ইসলামপুরসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। অনেক বসতবাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও নারীসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

পানি বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ ঘরের আসবাবপত্র উঁচু স্থানে তুলে রাখছেন। পানির কারণে রান্নাবান্না, চলাচল ও দৈনন্দিন কাজেও দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের বৃষ্টির পর ভোরের দিকে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। প্রথমে সড়ক ও নিচু জমিতে পানি জমলেও পরে তা বসতবাড়ির আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। নদীর পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে হঠাৎ করে ঢল নামায় নিচু এলাকার মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নদী ও ছড়ার কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টির সময় অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সড়ক ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় তাদের দুর্ভোগ প্রতিবছরই বাড়ছে।

আরও পড়ুনঃ  জলঢাকায় বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে নতুন করে আরও কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমানে অনেক এলাকায় পানি কমার অপেক্ষায় রয়েছেন বাসিন্দারা। তবে বৃষ্টি আবারও বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।