Dhaka ০১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেটায় বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার কর্মী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ৫০৮ Time View

ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। বুধবার থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। এই সংখ্যা প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। একই সঙ্গে আরও প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে নতুন দায়িত্বে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেখানে মূল ফোকাস থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট কাজে।

ছাঁটাই শুরুর আগে কোম্পানি বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মীদের হোম অফিসে কাজ করার নির্দেশ দেয়, যা বড় পরিসরের ছাঁটাইয়ের সময় মেটার নিয়মিত পদ্ধতি। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময় অঞ্চলে কর্মীদের কাছে ছাঁটাই সংক্রান্ত ইমেইল পাঠানো হয়। কিছু কর্মী স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে এই নোটিশ পান বলে জানা গেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন টাইম জোন অনুযায়ী ভাগ করে সম্পন্ন করা হয়।

রয়টার্সের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এখন আরও ‘ফ্ল্যাট’ বা সরল কাঠামোয় যেতে চায়। মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জেনেল গেইল কর্মীদের বার্তায় বলেন, নতুন কাঠামোয় ছোট ছোট দল বা ‘পড’ গঠন করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত কাজ করা যায় এবং কর্মীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিনিয়োগের কারণে বড় পরিবর্তন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছাঁটাই মূলত কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে প্রায় ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি বড় সংগঠন কাঠামো ভেঙে ছোট, দ্রুতগতির এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-কেন্দ্রিক দল গঠনের দিকে এগোচ্ছে। অনেক পুরোনো পদ বাতিল করে নতুন ধরনের এআই-ভিত্তিক ভূমিকা তৈরি করা হচ্ছে।

কোম্পানির ভেতরে উদ্বেগ ও অস্থিরতা

ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর কোম্পানির ভেতরে কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মী ভবিষ্যৎ চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কিছু কর্মী আগেভাগেই অফিসের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন ল্যাপটপ চার্জার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে শুরু করেন বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  নানি-নাতির বাংলাদেশ জয়ের গল্প

এছাড়া কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন একটি অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা চালুর অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের ব্যবস্থা কর্মপরিবেশকে আরও চাপপূর্ণ করে তুলছে।

প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের বড় ঢেউ

এই ছাঁটাই শুধু মেটা প্ল্যাটফর্মসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন চলছে। সিসকো সিস্টেমস, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং ওরাকলসহ একাধিক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই বা স্বেচ্ছা অবসরের মাধ্যমে তাদের কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে প্রযুক্তি খাতে একটি বড় পরিবর্তন চলছে, যেখানে কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে বড় কর্মী নির্ভর কাঠামো থেকে সরে এসে ছোট কিন্তু বেশি দক্ষ দল গঠনের দিকে যাচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কাঠামোগত পরিবর্তন

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সাময়িক অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং একটি কাঠামোগত পরিবর্তন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে অনেক নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এখন মেশিন এবং সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

ফলে মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমছে, আর কোম্পানিগুলো এখন এমন কর্মীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যারা জটিল সমস্যা সমাধান, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনায় দক্ষ।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মেটায় বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার কর্মী

Update Time : ১১:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। বুধবার থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। এই সংখ্যা প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। একই সঙ্গে আরও প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে নতুন দায়িত্বে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেখানে মূল ফোকাস থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট কাজে।

ছাঁটাই শুরুর আগে কোম্পানি বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মীদের হোম অফিসে কাজ করার নির্দেশ দেয়, যা বড় পরিসরের ছাঁটাইয়ের সময় মেটার নিয়মিত পদ্ধতি। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময় অঞ্চলে কর্মীদের কাছে ছাঁটাই সংক্রান্ত ইমেইল পাঠানো হয়। কিছু কর্মী স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে এই নোটিশ পান বলে জানা গেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন টাইম জোন অনুযায়ী ভাগ করে সম্পন্ন করা হয়।

রয়টার্সের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এখন আরও ‘ফ্ল্যাট’ বা সরল কাঠামোয় যেতে চায়। মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জেনেল গেইল কর্মীদের বার্তায় বলেন, নতুন কাঠামোয় ছোট ছোট দল বা ‘পড’ গঠন করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত কাজ করা যায় এবং কর্মীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিনিয়োগের কারণে বড় পরিবর্তন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছাঁটাই মূলত কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে প্রায় ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি বড় সংগঠন কাঠামো ভেঙে ছোট, দ্রুতগতির এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-কেন্দ্রিক দল গঠনের দিকে এগোচ্ছে। অনেক পুরোনো পদ বাতিল করে নতুন ধরনের এআই-ভিত্তিক ভূমিকা তৈরি করা হচ্ছে।

কোম্পানির ভেতরে উদ্বেগ ও অস্থিরতা

ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর কোম্পানির ভেতরে কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মী ভবিষ্যৎ চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কিছু কর্মী আগেভাগেই অফিসের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন ল্যাপটপ চার্জার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে শুরু করেন বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  এক স্কুলের ৯৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৫ জনের বৃত্তি লাভ

এছাড়া কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন একটি অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা চালুর অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের ব্যবস্থা কর্মপরিবেশকে আরও চাপপূর্ণ করে তুলছে।

প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের বড় ঢেউ

এই ছাঁটাই শুধু মেটা প্ল্যাটফর্মসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন চলছে। সিসকো সিস্টেমস, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং ওরাকলসহ একাধিক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই বা স্বেচ্ছা অবসরের মাধ্যমে তাদের কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে প্রযুক্তি খাতে একটি বড় পরিবর্তন চলছে, যেখানে কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে বড় কর্মী নির্ভর কাঠামো থেকে সরে এসে ছোট কিন্তু বেশি দক্ষ দল গঠনের দিকে যাচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কাঠামোগত পরিবর্তন

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সাময়িক অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং একটি কাঠামোগত পরিবর্তন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে অনেক নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এখন মেশিন এবং সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

ফলে মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমছে, আর কোম্পানিগুলো এখন এমন কর্মীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যারা জটিল সমস্যা সমাধান, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনায় দক্ষ।