Dhaka ০৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা ৩৩ কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচ্ছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে নবনিযুক্ত প্রসিকিউটরদের যোগদান এক দফা দাবিতে এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা আমার নোবেল পাওয়া উচিত, কিন্তু তারা দেবে কি না জানি না: ট্রাম্প বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান রেলস্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চুরি কঠিন শর্তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও চাকরি হয়নি ক্লীন্টনের, নদীভাঙনে হারিয়েছেন স্থায়ী ঠিকানা পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

মেয়ের বাড়ি যাওয়া হলো না ফিরোজার, প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু

মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ফিরোজা বেগম (৭৯)। বড় মেয়ে শিরি বেগমের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে কয়েক ঘণ্টা পর মেয়ের বাড়ির বদলে ফিরোজার পরিবারে পৌঁছায় তাঁর মৃত্যুর খবর।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি সরকারি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ফিরোজা বেগম। গাড়িটি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানখেতে নেমে যায়।

স্থানীয়রা ফিরোজাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর স্বামী নিজামুদ্দীন সরকার মারা গেছেন। দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জননী ছিলেন তিনি।

স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, ফিরোজার বড় ছেলে ফেরদৌস হোসেন কয়েক বছর আগে মারা যান। ছোট ছেলে সেলিম সরকার কৃষিকাজ করেন। পাঁচ মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ছেলে ফেরদৌসের স্ত্রী রিপা বেগম এবং ছোট ছেলে সেলিমের স্ত্রী রেশমা বেগমের সঙ্গে থাকতেন ফিরোজা।

পুত্রবধূ রেশমা বেগম বলেন, মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তাঁর শাশুড়ি। কিন্তু মেয়ের বাড়িতে যাওয়া আর হয়নি। ফিরতে হয়েছে লাশ হয়ে।

ফিরোজার স্বজন জাকির হাসান বলেন, নিজামুদ্দীন মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালিয়েছেন ফিরোজা। প্রায় দুই বিঘা জমি চাষাবাদ করে তাঁদের সংসার চলত। গুজিয়ায় বড় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ধরতে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুনঃ  তিব্বতে নতুন বিপদের শঙ্কা, ৭২ ঘণ্টায় ভাঙতে পারে বাধা হ্রদ

তবে স্বজনেরা ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন। এ ঘটনায় তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানান জাকির হাসান। তাঁর ভাষ্য, ফিরোজা বয়স্ক ছিলেন। অসাবধানতাবশত মহাসড়ক পার হওয়ার সময় গাড়ির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে।

ফিরোজার মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন বড় ছেলে ফেরদৌসের স্ত্রী রিপা বেগম। স্বামী মারা যাওয়ার পর শাশুড়িই ছিলেন তাঁর প্রধান আশ্রয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিপা বলেন, শাশুড়ি তাঁর কাছে বটবৃক্ষের ছায়ার মতো ছিলেন। এরপর আর কথা বলতে পারেননি তিনি; কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা

মেয়ের বাড়ি যাওয়া হলো না ফিরোজার, প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু

Update Time : ০৪:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ফিরোজা বেগম (৭৯)। বড় মেয়ে শিরি বেগমের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে কয়েক ঘণ্টা পর মেয়ের বাড়ির বদলে ফিরোজার পরিবারে পৌঁছায় তাঁর মৃত্যুর খবর।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি সরকারি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ফিরোজা বেগম। গাড়িটি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানখেতে নেমে যায়।

স্থানীয়রা ফিরোজাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর স্বামী নিজামুদ্দীন সরকার মারা গেছেন। দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জননী ছিলেন তিনি।

স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, ফিরোজার বড় ছেলে ফেরদৌস হোসেন কয়েক বছর আগে মারা যান। ছোট ছেলে সেলিম সরকার কৃষিকাজ করেন। পাঁচ মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ছেলে ফেরদৌসের স্ত্রী রিপা বেগম এবং ছোট ছেলে সেলিমের স্ত্রী রেশমা বেগমের সঙ্গে থাকতেন ফিরোজা।

পুত্রবধূ রেশমা বেগম বলেন, মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তাঁর শাশুড়ি। কিন্তু মেয়ের বাড়িতে যাওয়া আর হয়নি। ফিরতে হয়েছে লাশ হয়ে।

ফিরোজার স্বজন জাকির হাসান বলেন, নিজামুদ্দীন মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালিয়েছেন ফিরোজা। প্রায় দুই বিঘা জমি চাষাবাদ করে তাঁদের সংসার চলত। গুজিয়ায় বড় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ধরতে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুনঃ  দোকানদার ভাড়া দেন ৫০ হাজার, কর্তৃপক্ষ পায় মাত্র ১২০০ টাকা

তবে স্বজনেরা ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন। এ ঘটনায় তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানান জাকির হাসান। তাঁর ভাষ্য, ফিরোজা বয়স্ক ছিলেন। অসাবধানতাবশত মহাসড়ক পার হওয়ার সময় গাড়ির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে।

ফিরোজার মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন বড় ছেলে ফেরদৌসের স্ত্রী রিপা বেগম। স্বামী মারা যাওয়ার পর শাশুড়িই ছিলেন তাঁর প্রধান আশ্রয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিপা বলেন, শাশুড়ি তাঁর কাছে বটবৃক্ষের ছায়ার মতো ছিলেন। এরপর আর কথা বলতে পারেননি তিনি; কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।