Dhaka ০১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ জোরদারের ইঙ্গিতে তেলের দাম ছাড়াল ১২০ ডলার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৬ Time View

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর একটি ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরের পর তেলের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়েছে।

বুধবার বিশ্বব্যাপী ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে। কিছু সময়ের জন্য এই দাম ১২২ ডলার ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের পর এর সর্বোচ্চ দাম।বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকান ভোক্তাদের ওপর এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব কীভাবে সীমিত করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করতে শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থসহ জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। 

তেল ব্যবসায়ীরা দৃশ্যত এই বৈঠকটিকে এমন একটি ইঙ্গিত হিসেবে নিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালির কার্যকর অচলাবস্থা বা বন্ধ থাকা আরও দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকবে।হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার মতে, নির্বাহীরা অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন, ভেনিজুয়েলার অগ্রগতি, তেলের ফিউচার (ভবিষ্যতের চুক্তি), প্রাকৃতিক গ্যাস এবং শিপিং (নৌপরিবহন) সহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

তারা এই বৈঠকটিকে তাদের শিল্প নিয়ে আলোচনার জন্য জ্বালানি নির্বাহীদের সাথে প্রেসিডেন্টের নিয়মিত বৈঠকের একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পৃথক প্রতিবেদনের পর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলার প্রয়াসে ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান অবরোধ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিতে তার সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

ইরান জানিয়েছে, মার্কিন অবরোধের জবাবে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযানের চলাচলে অবরোধ অব্যাহত রাখবে।

সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্যকরভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে, বিশ্ববাজারে বারবার তেলের দামে ওঠানামা দেখা গেছে। 

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান এই প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করেছে। প্রণালিটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। 

এই মাসের শুরুতে তেহরান সতর্ক করে দিয়েছিল, কোনো নৌযান এই প্রণালির কাছাকাছি এলেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে, তাদের বাহিনী ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে ছেড়ে আসা নৌযানগুলোকে বাধা দেবে বা ফিরিয়ে দেবে।

আরও পড়ুনঃ  হামলা করে আমাকে ইরান যুদ্ধে জয়ী হওয়া থেকে সরানো যাবে না

বিবিসি’র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের বন্দরগুলো থেকে ট্র্যাক করা অন্তত চারটি নৌযান মার্কিন অবরোধ রেখা অতিক্রম করতে পেরেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর ওঠানামা সত্ত্বেও, তেলের দাম এখনও সংঘাত-পূর্ববর্তী প্রতি ব্যারেলের দামের তুলনায় অনেক বেশি।

ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ১৭ এপ্রিল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্র গত ৮ এপ্রিল বলেছিল যে তারা ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখবে। এটি এখনও সংঘাত-পূর্ববর্তী প্রতি ব্যারেলের দামের চেয়ে অনেক বেশি।

তবে, যুক্তরাষ্ট্র তার অবরোধ অব্যাহত রাখায় গত ১২ দিন ধরে তেলের এই দাম স্থিরভাবে বাড়ছে। 

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ জোরদারের ইঙ্গিতে তেলের দাম ছাড়াল ১২০ ডলার

Update Time : ১২:১৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর একটি ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরের পর তেলের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়েছে।

বুধবার বিশ্বব্যাপী ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে। কিছু সময়ের জন্য এই দাম ১২২ ডলার ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের পর এর সর্বোচ্চ দাম।বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকান ভোক্তাদের ওপর এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব কীভাবে সীমিত করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করতে শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থসহ জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। 

তেল ব্যবসায়ীরা দৃশ্যত এই বৈঠকটিকে এমন একটি ইঙ্গিত হিসেবে নিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালির কার্যকর অচলাবস্থা বা বন্ধ থাকা আরও দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকবে।হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার মতে, নির্বাহীরা অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন, ভেনিজুয়েলার অগ্রগতি, তেলের ফিউচার (ভবিষ্যতের চুক্তি), প্রাকৃতিক গ্যাস এবং শিপিং (নৌপরিবহন) সহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

তারা এই বৈঠকটিকে তাদের শিল্প নিয়ে আলোচনার জন্য জ্বালানি নির্বাহীদের সাথে প্রেসিডেন্টের নিয়মিত বৈঠকের একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পৃথক প্রতিবেদনের পর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলার প্রয়াসে ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান অবরোধ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিতে তার সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

ইরান জানিয়েছে, মার্কিন অবরোধের জবাবে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযানের চলাচলে অবরোধ অব্যাহত রাখবে।

সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্যকরভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে, বিশ্ববাজারে বারবার তেলের দামে ওঠানামা দেখা গেছে। 

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান এই প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করেছে। প্রণালিটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। 

এই মাসের শুরুতে তেহরান সতর্ক করে দিয়েছিল, কোনো নৌযান এই প্রণালির কাছাকাছি এলেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে, তাদের বাহিনী ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে ছেড়ে আসা নৌযানগুলোকে বাধা দেবে বা ফিরিয়ে দেবে।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি করল ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে

বিবিসি’র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের বন্দরগুলো থেকে ট্র্যাক করা অন্তত চারটি নৌযান মার্কিন অবরোধ রেখা অতিক্রম করতে পেরেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর ওঠানামা সত্ত্বেও, তেলের দাম এখনও সংঘাত-পূর্ববর্তী প্রতি ব্যারেলের দামের তুলনায় অনেক বেশি।

ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ১৭ এপ্রিল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্র গত ৮ এপ্রিল বলেছিল যে তারা ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখবে। এটি এখনও সংঘাত-পূর্ববর্তী প্রতি ব্যারেলের দামের চেয়ে অনেক বেশি।

তবে, যুক্তরাষ্ট্র তার অবরোধ অব্যাহত রাখায় গত ১২ দিন ধরে তেলের এই দাম স্থিরভাবে বাড়ছে।