Dhaka ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, স্বামীর ১২ বছরের কারাদণ্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৫০৬ Time View

ফরিদপুরের সদরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলায় স্বামী নুরজামাল মিয়াকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন।মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার টেউটাখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরজামাল মিয়ার সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে একই এলাকার মুর্শিদা বেগমের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, নুরজামাল মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। সংসার চালানোর পাশাপাশি স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। কয়েক দফায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৪ মে রাতে আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে মারধর করেন নুরজামাল। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে ঘরের ভেতর আটকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত ভেবে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মুর্শিদা বেগমকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা ফজলু মোল্লা সদরপুর থানায় নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন বলেন, যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
 

আরও পড়ুনঃ  ইবি শিক্ষক আসমা সাদিয়া হত্যার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি
Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, স্বামীর ১২ বছরের কারাদণ্ড

Update Time : ০৪:০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ফরিদপুরের সদরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলায় স্বামী নুরজামাল মিয়াকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন।মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার টেউটাখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরজামাল মিয়ার সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে একই এলাকার মুর্শিদা বেগমের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, নুরজামাল মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। সংসার চালানোর পাশাপাশি স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। কয়েক দফায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৪ মে রাতে আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে মারধর করেন নুরজামাল। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে ঘরের ভেতর আটকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত ভেবে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মুর্শিদা বেগমকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা ফজলু মোল্লা সদরপুর থানায় নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন বলেন, যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
 

আরও পড়ুনঃ  ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চলমান কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।