Dhaka ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ২ জন এবার জাপানে বড় ধরনের পাহাড় ধসের শঙ্কা, সতর্কতা জারি পুকুর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সক্রিয় গ্রেনেড উদ্ধার ‘ইগো-অহংকারের কাছে জাতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া ঠিক নয়’: শিশির মনির দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর, তালাবদ্ধ ঘর থেকে ৩ মরদেহ উদ্ধার ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্ধ হতে পারে ৪ কোটি গ্রাহকের সিম লা.শ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শি.শুসহ আহত ৮ সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে যুবকের গলা কা টা লা শ উদ্ধার দালালকে ৩১ লাখ টাকা দিয়েও ফেরেনি ছেলে, লাশের অপেক্ষায় বৃদ্ধা মা

রায়নগর ট্রিপল মার্ডার: পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট না হলে সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি পরিবারের

সিলেট নগরের রায়নগরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতদের পরিবার।

সোমবার সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ওই বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান নিহত ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরিফ ইফতেখার। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আরিফ ইফতেখার বলেন, মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। আবার কেউ প্রভাবশালী হওয়ার কারণে যেন আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন। পুলিশের চলমান তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের দাবি জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নিহত আব্দুস সাত্তার, সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার ছবি কোনো অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক বা অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি নিহত তিনজনের আত্মার শান্তি কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত দম্পতির তিন মেয়ে তাহমিনা, সেলিনা ও তারানা উপস্থিত ছিলেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সত্য কখনো চাপা থাকে না; সময়ের সঙ্গে প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হবেই।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার মিতালী-১১১ নম্বর বাসা থেকে বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (১৫)-এর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার দিন বিকেলে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা প্রয়াত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৪০)কে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ দাবি করে, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  প্রেমের সম্পর্কের জেরে সিলেটে ট্রিপল মার্ডার, গ্রেপ্তার কসাই বাবুল

তবে পুলিশের এই দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে নিহতদের পরিবার।

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর শুক্রবার রাতে নিহত দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এজাহারে জমি-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে ভাড়াটে লোক দিয়ে তার বাবা-মা ও গৃহপরিচারিকাকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, রোববার বাবুল মিয়াকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িত অন্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ২ জন

রায়নগর ট্রিপল মার্ডার: পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট না হলে সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি পরিবারের

Update Time : ০৫:০০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

সিলেট নগরের রায়নগরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতদের পরিবার।

সোমবার সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ওই বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান নিহত ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরিফ ইফতেখার। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আরিফ ইফতেখার বলেন, মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। আবার কেউ প্রভাবশালী হওয়ার কারণে যেন আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন। পুলিশের চলমান তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের দাবি জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নিহত আব্দুস সাত্তার, সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার ছবি কোনো অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক বা অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি নিহত তিনজনের আত্মার শান্তি কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত দম্পতির তিন মেয়ে তাহমিনা, সেলিনা ও তারানা উপস্থিত ছিলেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সত্য কখনো চাপা থাকে না; সময়ের সঙ্গে প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হবেই।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার মিতালী-১১১ নম্বর বাসা থেকে বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (১৫)-এর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার দিন বিকেলে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা প্রয়াত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৪০)কে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ দাবি করে, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে যায় স্ত্রী, মারা গেলেন সেই প্রবাসী জামাল উদ্দিন

তবে পুলিশের এই দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে নিহতদের পরিবার।

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর শুক্রবার রাতে নিহত দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এজাহারে জমি-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে ভাড়াটে লোক দিয়ে তার বাবা-মা ও গৃহপরিচারিকাকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, রোববার বাবুল মিয়াকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িত অন্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।