Dhaka ১১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব সময় চেয়েছি ভিন্নভাবে পর্দায় আসতে: সাবিলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৫০৫ Time View

অভিনেত্রী সাবিলা নূর। টানা তিন ঈদে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত তিনটি সিনেমা। এবার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে চলছে আজমান রুশোর সিনেমা ‘রকস্টার’। এতে দ্বিতীয়বারের মতো শাকিব খানের সঙ্গে জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘রকস্টার’ সিনেমাসহ অভিনয় ও ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

পরপর তিন ঈদে আপনার অভিনীত সিনেমা মুক্তি পেল। কেমন লাগছে বিষয়টি?
বিষয়টি অবশ্যই আমার জন্য আনন্দের। ‘তাণ্ডব’ দিয়ে সিনেমায় আমার অভিষেক হয়। এরপর দুই ঈদেই সিনেমাতে অভিনয় করার সৌভাগ্য হলো। এটা নিঃসন্দেহে ভালো লাগার। এরমধ্যে দুই ঈদে মেগাস্টার শাকিব খানের বিপরীতে আর এক ঈদ শরিফুল রাজের সঙ্গে। সিনেমাগুলো দর্শকরা দারুণভাবে গ্রহণও করেছেন। আমার চরিত্রগুলোও দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হলো। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তিরও।শাকিব খানের সঙ্গে দ্বিতীয়বার পর্দায় নিজেকে দেখার পর কী মনে হচ্ছে?
আমি খুবই সৌভাগ্যবান। কারণ, শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রকল্পেই আমি মীরা চরিত্রটি করার সুযোগ পেয়েছি। যেখানে অভিনয় করার সুযোগ ছিল। সেখানে মীরার সঙ্গে আগুন চরিত্রের একটা দারুণ কেমিস্ট্রি! সিনেমাটি যারা দেখছেন, তারা ভালো লাগার কথা জানাচ্ছেন। রকস্টার মিউজিক্যাল ফিল্ম হলেও এটা নিটোল একটা প্রেমের ছবিও। সেই ছবির মীরা আমি হতে পেরেছি।রকস্টার মুক্তির পর থেকেই হলে হলে ঘুরছেন, দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন?
ঈদের দিন পরিবারকে সময় দিয়েছি। এখন সময় দিচ্ছি আমার দ্বিতীয় পরিবার দর্শকদের। তাদের সঙ্গে হলে সিনেমা দেখতে আমি ভীষণ পছন্দ করি। এ অভিজ্ঞতা আমি কখনোই মিস করতে চাই না। হলে গিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে শাকিব ভাইয়ের পাশাপাশি দর্শক আমার চরিত্রটা ভীষণভাবে পছন্দ করছে। তারা আমাকে সরাসরি পেয়ে সেটা জানিয়েছে, আমিও তাদের উচ্ছ্বাস কাছ থেকে দেখেছি। একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য এমন দৃশ্য দেখার সুযোগ অন্যতম বড় প্রাপ্তিই মনে করি আমি। 

আরও পড়ুনঃ  রাক্ষস’-এর ট্রেলারে ভয়ঙ্কর সিয়াম, পাওয়া গেলো জিল্লুকেও

সিনেমাটিতে শাকিব খানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বলছেন অনেকেই। আপনি কী বলবেন?
শাকিব খান তো প্রতিটি সিনেমাতেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে ও স্টাইলে হাজির হন। এই সিনেমায় তাঁর ট্রান্সফরমেশনটা আরও বেশি পরিমাণ হয়েছে। এখানে শাকিব ভাই নিজেকে যেভাবে প্রেজেন্ট করেছেন, আগে তিনি যা করেছেন, সেটার চেয়ে অনেক অনেক গুণে বেশি। এটার পেছনে অবশ্য সিনেমার গল্পই মুখ্য। কারণ সিনেমার জনরাও অন্যরকম। এটা মিউজিক্যাল রোমান্টিক সিনেমা। এখানে আমার আর শাকিব ভাইয়ের রসায়নটাও ভিন্ন টাইপ। এ ছাড়া এখানে আলাদা কিছু বিষয় আছে, যা এর আগে দর্শক কখনও দেখেনি।

‘তাণ্ডব’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’– কোন সিনেমাটাকে এগিয়ে রাখবেন?
তিনটিই আলাদা ধরনের সিনেমা। যেমন ‘তাণ্ডব’ বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা, সেখানে ‘লিচুর বাগানে’ ধরনের গান ছিল, অ্যাকশন ছিল থ্রিলারও ছিল। আবার ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ পুরোপুরি ভিন্ন টাইপ। তাণ্ডবের সঙ্গে এর কোনো দিক থেকেই মেলানো যাবে না। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর চিত্রার চেয়ে ‘রকস্টার’-এর মীরা একেবারেই আলাদা। কাজেই একটির সঙ্গে আরেকটির তুলনা চলে না। আর তিনটি ছবিই তো আমার। সিনেমাগুলোর গল্পও অসাধারণ! টেকনিক্যাল বিষয়টিও উন্নত। সবগুলোকেই আমি এগিয়ে রাখব।আগামীতে কী ধরনের গল্প ও চরিত্রে ফোকাস করতে চান?
আসলে এটা বলা কঠিন। কারণ, আমি সব সময় চেয়েছি ভিন্ন ভিন্নভাবে পর্দায় আসতে। আমার কাছে গল্প মূল বিষয়। আমি ভালো গল্পে দর্শকের সামনে আসতে চাই, যা আগে কখনও করিনি। আমি অভিনয়ের মানুষ, ভালো ও চরিত্র পেলে যে কোনো গল্পে ও চরিত্রে কাজ করতে চাই।

অনেক দিন আপনি নাটক-ওটিটিতে নেই…
আমি নাটক থেকে উঠে এসেছি। এটাই আমার শেকড়। এরপর ওটিটিতে বেশকিছু কাজ করেছি। সেগুলো দর্শক ভালোভাবে নিয়েছে। তারপর সিনেমায় এসেছি। এখানেও দর্শক আমাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। নাটক, ওটিটি ও সিনেমা– এই তিনটি প্ল্যাটফর্মের প্রস্তুতি তিন রকম। সিনেমার প্রস্তুতি দীর্ঘদিন ধরে নিতে হয়। তাই নাটক, ওটিটিতে কাজ করা সম্ভব হয় না। তার মানে এই না যে, আমি একেবারে নাটক ছেড়ে দিয়েছি। আমার মূলকথা হলো অভিনয়। এটাই করে যেতে চাই।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সব সময় চেয়েছি ভিন্নভাবে পর্দায় আসতে: সাবিলা

Update Time : ০৪:১৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

অভিনেত্রী সাবিলা নূর। টানা তিন ঈদে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত তিনটি সিনেমা। এবার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে চলছে আজমান রুশোর সিনেমা ‘রকস্টার’। এতে দ্বিতীয়বারের মতো শাকিব খানের সঙ্গে জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘রকস্টার’ সিনেমাসহ অভিনয় ও ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

পরপর তিন ঈদে আপনার অভিনীত সিনেমা মুক্তি পেল। কেমন লাগছে বিষয়টি?
বিষয়টি অবশ্যই আমার জন্য আনন্দের। ‘তাণ্ডব’ দিয়ে সিনেমায় আমার অভিষেক হয়। এরপর দুই ঈদেই সিনেমাতে অভিনয় করার সৌভাগ্য হলো। এটা নিঃসন্দেহে ভালো লাগার। এরমধ্যে দুই ঈদে মেগাস্টার শাকিব খানের বিপরীতে আর এক ঈদ শরিফুল রাজের সঙ্গে। সিনেমাগুলো দর্শকরা দারুণভাবে গ্রহণও করেছেন। আমার চরিত্রগুলোও দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হলো। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তিরও।শাকিব খানের সঙ্গে দ্বিতীয়বার পর্দায় নিজেকে দেখার পর কী মনে হচ্ছে?
আমি খুবই সৌভাগ্যবান। কারণ, শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রকল্পেই আমি মীরা চরিত্রটি করার সুযোগ পেয়েছি। যেখানে অভিনয় করার সুযোগ ছিল। সেখানে মীরার সঙ্গে আগুন চরিত্রের একটা দারুণ কেমিস্ট্রি! সিনেমাটি যারা দেখছেন, তারা ভালো লাগার কথা জানাচ্ছেন। রকস্টার মিউজিক্যাল ফিল্ম হলেও এটা নিটোল একটা প্রেমের ছবিও। সেই ছবির মীরা আমি হতে পেরেছি।রকস্টার মুক্তির পর থেকেই হলে হলে ঘুরছেন, দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন?
ঈদের দিন পরিবারকে সময় দিয়েছি। এখন সময় দিচ্ছি আমার দ্বিতীয় পরিবার দর্শকদের। তাদের সঙ্গে হলে সিনেমা দেখতে আমি ভীষণ পছন্দ করি। এ অভিজ্ঞতা আমি কখনোই মিস করতে চাই না। হলে গিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে শাকিব ভাইয়ের পাশাপাশি দর্শক আমার চরিত্রটা ভীষণভাবে পছন্দ করছে। তারা আমাকে সরাসরি পেয়ে সেটা জানিয়েছে, আমিও তাদের উচ্ছ্বাস কাছ থেকে দেখেছি। একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য এমন দৃশ্য দেখার সুযোগ অন্যতম বড় প্রাপ্তিই মনে করি আমি। 

আরও পড়ুনঃ  ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় একজন মানুষকে কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০ মশা!

সিনেমাটিতে শাকিব খানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বলছেন অনেকেই। আপনি কী বলবেন?
শাকিব খান তো প্রতিটি সিনেমাতেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে ও স্টাইলে হাজির হন। এই সিনেমায় তাঁর ট্রান্সফরমেশনটা আরও বেশি পরিমাণ হয়েছে। এখানে শাকিব ভাই নিজেকে যেভাবে প্রেজেন্ট করেছেন, আগে তিনি যা করেছেন, সেটার চেয়ে অনেক অনেক গুণে বেশি। এটার পেছনে অবশ্য সিনেমার গল্পই মুখ্য। কারণ সিনেমার জনরাও অন্যরকম। এটা মিউজিক্যাল রোমান্টিক সিনেমা। এখানে আমার আর শাকিব ভাইয়ের রসায়নটাও ভিন্ন টাইপ। এ ছাড়া এখানে আলাদা কিছু বিষয় আছে, যা এর আগে দর্শক কখনও দেখেনি।

‘তাণ্ডব’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’– কোন সিনেমাটাকে এগিয়ে রাখবেন?
তিনটিই আলাদা ধরনের সিনেমা। যেমন ‘তাণ্ডব’ বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা, সেখানে ‘লিচুর বাগানে’ ধরনের গান ছিল, অ্যাকশন ছিল থ্রিলারও ছিল। আবার ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ পুরোপুরি ভিন্ন টাইপ। তাণ্ডবের সঙ্গে এর কোনো দিক থেকেই মেলানো যাবে না। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর চিত্রার চেয়ে ‘রকস্টার’-এর মীরা একেবারেই আলাদা। কাজেই একটির সঙ্গে আরেকটির তুলনা চলে না। আর তিনটি ছবিই তো আমার। সিনেমাগুলোর গল্পও অসাধারণ! টেকনিক্যাল বিষয়টিও উন্নত। সবগুলোকেই আমি এগিয়ে রাখব।আগামীতে কী ধরনের গল্প ও চরিত্রে ফোকাস করতে চান?
আসলে এটা বলা কঠিন। কারণ, আমি সব সময় চেয়েছি ভিন্ন ভিন্নভাবে পর্দায় আসতে। আমার কাছে গল্প মূল বিষয়। আমি ভালো গল্পে দর্শকের সামনে আসতে চাই, যা আগে কখনও করিনি। আমি অভিনয়ের মানুষ, ভালো ও চরিত্র পেলে যে কোনো গল্পে ও চরিত্রে কাজ করতে চাই।

অনেক দিন আপনি নাটক-ওটিটিতে নেই…
আমি নাটক থেকে উঠে এসেছি। এটাই আমার শেকড়। এরপর ওটিটিতে বেশকিছু কাজ করেছি। সেগুলো দর্শক ভালোভাবে নিয়েছে। তারপর সিনেমায় এসেছি। এখানেও দর্শক আমাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। নাটক, ওটিটি ও সিনেমা– এই তিনটি প্ল্যাটফর্মের প্রস্তুতি তিন রকম। সিনেমার প্রস্তুতি দীর্ঘদিন ধরে নিতে হয়। তাই নাটক, ওটিটিতে কাজ করা সম্ভব হয় না। তার মানে এই না যে, আমি একেবারে নাটক ছেড়ে দিয়েছি। আমার মূলকথা হলো অভিনয়। এটাই করে যেতে চাই।