
ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনসহ নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করতে সিলেটে চালু হচ্ছে ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম (ECPS)। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতিও অনলাইনে জানার সুযোগ থাকবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন পদ্ধতি চালু হলে ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য নাগরিকদের বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে যোগাযোগ করার প্রয়োজন কমে আসবে। অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য জমা এবং আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানার সুযোগ থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘এক্সপ্রেস সার্ভিস’
সিলেটের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। দেশে বাড়ি নির্মাণ কিংবা ভবনের নকশা অনুমোদনের মতো কাজে প্রবাসীদের অনেক সময় পরিবারের সদস্য বা প্রতিনিধির সহায়তা নিতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়।
প্রবাসীদের এই সমস্যা কমাতে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত সিলেটিরা ভবনের নকশা অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট সেবা তুলনামূলক দ্রুত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রবাসীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে এক মাসের মধ্যে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এতে দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের জন্য ভবন নির্মাণসংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ অনেকটাই সহজ হতে পারে।
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর সারা দেশের সঙ্গে সিলেটেও দিবসটি পালনের আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র্যালি, আলোচনা সভা, ECPS উদ্বোধন, শিক্ষার্থীদের আইডিয়া প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন মডেল প্রদর্শনী, স্টল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
এ ছাড়া দ্বিতীয় দিনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, টেকসই নগরায়ণ ও আবাসন বিষয়ে সেমিনার, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন, পুরস্কার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
আবাসন খাতের বিভিন্ন পক্ষকে যুক্ত করার উদ্যোগ
বিশ্ব বসতি দিবসের আয়োজনকে কেন্দ্র করে সিলেটে আবাসন ও নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীকে একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ আয়োজনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির পুরকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা অংশ নিচ্ছেন।
এ ছাড়া ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (IEB), ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (IAB), ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (IDEB), সিলেটের অ্যাপার্টমেন্ট ও রিয়েল এস্টেট খাতের প্রতিনিধিরা এবং প্রকৌশল ও স্থাপত্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এতে যুক্ত রয়েছেন।
আয়োজকদের মতে, নগর পরিকল্পনা ও আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশলী, স্থপতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও আবাসন খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে নানা আয়োজন
দুই দিনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদেরও বিশেষভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতের নগর পরিকল্পনা নিয়ে তরুণদের চিন্তা ও সৃজনশীল ধারণা তুলে ধরতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
এর মধ্যে নগরায়ণ নিয়ে আইডিয়া প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, মডেল প্রদর্শনী এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী রয়েছে। ইতোমধ্যে নগরায়ণ ও ভবিষ্যৎ সিলেট নিয়ে ৩০টির বেশি ধারণা জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আয়োজকদের আশা, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই আবাসন বিষয়ে আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সিলেটকে আরও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তরুণদের নতুন চিন্তাভাবনা সামনে আসবে।
পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে পরিবেশ রক্ষার অংশ হিসেবে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রাখা হয়েছে। আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর টেকসই নগরায়ণ ও আবাসন বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, আবাসন ও ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।
দিনের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।
আধুনিক ও পরিকল্পিত সিলেট গড়ার লক্ষ্য
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানিয়েছেন, সিলেটকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য তরুণ প্রজন্ম, প্রকৌশলী, স্থপতি, শিক্ষাবিদ এবং আবাসন খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও মতামত কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে নাগরিক সেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে মানুষের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ECPS চালু হলে ভবনের নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সময় ও শ্রম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য দ্রুতসেবা চালু হলে বিদেশে অবস্থানরত সিলেটিদের জন্য বাড়ি বা ভবন নির্মাণসংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ আরও সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
নগরায়ণ দ্রুত বাড়তে থাকায় সিলেটের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিজিটাল সেবা, পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ এবং তরুণদের সৃজনশীল ধারণাকে একসঙ্গে কাজে লাগানো গেলে একটি আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব সিলেট গড়ে তোলার পথ আরও সহজ হতে পারে।
সিলেট প্রতিনিধি 



















