Dhaka ০৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে জন্মাষ্টমীর আয়োজনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সজাগ থাকবে পুলিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার সিলেটে আসছেন হুমায়ুন কবির দুই দিনের সফরে ৬ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি এবার দুদকের বিরুদ্ধেই মামলার হুমকি আসিফ মাহমুদের সিলেটসহ পাঁচ জেলার ডিসি-এসপিকে আইনি নোটিশ সিলেটে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর ৪ দিনের অনশন জগন্নাথপুরে যোগ দিয়েই ‘অনুমতি ছাড়া কথা নয়’, বললেন কর্মকর্তা তুলি নিখোঁজ একমাত্র ছেলেকে খুঁজতে ২ হাজার রুপি ধার, দুর্গম পাহাড়ে বাবার হাহাকার শ্রীমঙ্গলে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকচালক নিহত ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন মৌলভীবাজার-৩ এমপি নাসের রহমান

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: এজাহারে নেই বাবুলের নাম, জমি-মামলার বিরোধে খুনের নেপথ্যে নতুন রহস্য

সিলেটের আলোচিত মিতালী-১১১ ট্রিপল মার্ডার মামলায় নতুন করে সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের জমি ও মামলা-সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য। নিহত ব্যবসায়ী এম এ সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় যে এজাহার দিয়েছেন, তাতে কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি আসামি করা হয়নি। আলোচনায় থাকা বাবুল মিয়ার নামও এজাহারে নেই।

তবে এজাহারে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে ঘিরে জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি এবং পূর্বের একাধিক মামলা-অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।

গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় নিজ বাসায় খুন হন প্রবীণ ব্যবসায়ী এম এ সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম। হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে মামলা ও ভূমি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, জিডির কপি ও দলিল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন নিহতের মেয়ে।

এজাহারে সেলিনা সুলতানা দাবি করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা, হুমকি এবং আদালতকেন্দ্রিক নানা ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—হত্যাকাণ্ডের আগে গত ২৮ ও ৩০ জুলাই তার বাবা এম এ সাত্তারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর মাত্র কয়েকদিন পর ১২ আগস্ট নিজ বাসায় ঘটে যায় তিনজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অজ্ঞাত পেশাদার ভাড়াটিয়া খুনিদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। হত্যার পর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এজাহারে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। জমি ও মামলা-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে ট্রিপল মার্ডারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, কিংবা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় কী—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

আরও পড়ুনঃ  ছাত্রীকে একা পেয়ে যা করলেন প্রধান শিক্ষক
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে জন্মাষ্টমীর আয়োজনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সজাগ থাকবে পুলিশ

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: এজাহারে নেই বাবুলের নাম, জমি-মামলার বিরোধে খুনের নেপথ্যে নতুন রহস্য

Update Time : ১১:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটের আলোচিত মিতালী-১১১ ট্রিপল মার্ডার মামলায় নতুন করে সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের জমি ও মামলা-সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য। নিহত ব্যবসায়ী এম এ সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় যে এজাহার দিয়েছেন, তাতে কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি আসামি করা হয়নি। আলোচনায় থাকা বাবুল মিয়ার নামও এজাহারে নেই।

তবে এজাহারে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে ঘিরে জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি এবং পূর্বের একাধিক মামলা-অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।

গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় নিজ বাসায় খুন হন প্রবীণ ব্যবসায়ী এম এ সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম। হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে মামলা ও ভূমি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, জিডির কপি ও দলিল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন নিহতের মেয়ে।

এজাহারে সেলিনা সুলতানা দাবি করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা, হুমকি এবং আদালতকেন্দ্রিক নানা ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—হত্যাকাণ্ডের আগে গত ২৮ ও ৩০ জুলাই তার বাবা এম এ সাত্তারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর মাত্র কয়েকদিন পর ১২ আগস্ট নিজ বাসায় ঘটে যায় তিনজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অজ্ঞাত পেশাদার ভাড়াটিয়া খুনিদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। হত্যার পর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এজাহারে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। জমি ও মামলা-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে ট্রিপল মার্ডারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, কিংবা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় কী—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

আরও পড়ুনঃ  ১৪ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, রিপন মিয়াকে গ্রামছাড়ার নির্দেশ