Dhaka ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা ৩৩ কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচ্ছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে নবনিযুক্ত প্রসিকিউটরদের যোগদান এক দফা দাবিতে এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা আমার নোবেল পাওয়া উচিত, কিন্তু তারা দেবে কি না জানি না: ট্রাম্প বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান রেলস্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চুরি কঠিন শর্তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও চাকরি হয়নি ক্লীন্টনের, নদীভাঙনে হারিয়েছেন স্থায়ী ঠিকানা পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেটে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গলা-মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত; আটক ৩

সিলেট নগরের রেলস্টেশন এলাকার বাস টার্মিনালের কাছ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ভ্রাম্যমাণ কাঁচামাল ব্যবসায়ী লায়েছ মিয়া (৩৪)-এর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও নিহতের ভাড়া বাসা থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা কারা এর সঙ্গে জড়িত—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রেলস্টেশন এলাকার বাস টার্মিনালের পাশে সড়ক পরিষ্কারের কাজ করছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা রাস্তার পাশে একটি মানুষের পা দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তায় মোড়ানো একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে পরিচয় শনাক্তের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয়, মরদেহটি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া এলাকার আঙ্গুর মিয়ার ছেলে লায়েছ মিয়ার।

শামিমাবাদে ভাড়া বাসায় থাকতেন লায়েছ

নিহত লায়েছ মিয়া সিলেট নগরের শামিমাবাদ এলাকায় মনিকা হলের পাশের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। মৌসুমি ফল ও সবজি বিক্রি করে জীবিকা চালাতেন তিনি।

তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর ভাড়া বাসাতেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব আলামত বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

শরীরে আঘাতের চিহ্ন

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে লায়েছ মিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর গলা ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শরীরের অন্যান্য স্থানেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, মারধরের পর তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর মরদেহ বস্তাবন্দি করে রেলস্টেশন এলাকার বাস টার্মিনালের কাছে ফেলে রাখা হয়।

হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে বলে প্রথমদিকে ধারণা করা হলেও, বৃহস্পতিবার রাতেও ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  বিইউবিটিতে স্টুডেন্ট রিসার্চ আইডিয়া কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত

আটক ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ

মরদেহ উদ্ধারের পরপরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল এবং নিহতের বাসা থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, সুরতহালে নিহতের গলা ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে মামলা দায়ের হতে পারে।

কারণ জানতে চলছে তদন্ত

পুলিশ বলছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল কিংবা কারা সরাসরি জড়িত—এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থল ও নিহতের বাসা থেকে সংগৃহীত আলামত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন—সবকিছু মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

তদন্ত শেষে হত্যার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা

সিলেটে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গলা-মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত; আটক ৩

Update Time : ০৩:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট নগরের রেলস্টেশন এলাকার বাস টার্মিনালের কাছ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ভ্রাম্যমাণ কাঁচামাল ব্যবসায়ী লায়েছ মিয়া (৩৪)-এর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও নিহতের ভাড়া বাসা থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা কারা এর সঙ্গে জড়িত—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রেলস্টেশন এলাকার বাস টার্মিনালের পাশে সড়ক পরিষ্কারের কাজ করছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা রাস্তার পাশে একটি মানুষের পা দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তায় মোড়ানো একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে পরিচয় শনাক্তের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয়, মরদেহটি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া এলাকার আঙ্গুর মিয়ার ছেলে লায়েছ মিয়ার।

শামিমাবাদে ভাড়া বাসায় থাকতেন লায়েছ

নিহত লায়েছ মিয়া সিলেট নগরের শামিমাবাদ এলাকায় মনিকা হলের পাশের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। মৌসুমি ফল ও সবজি বিক্রি করে জীবিকা চালাতেন তিনি।

তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর ভাড়া বাসাতেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব আলামত বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

শরীরে আঘাতের চিহ্ন

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে লায়েছ মিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর গলা ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শরীরের অন্যান্য স্থানেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, মারধরের পর তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর মরদেহ বস্তাবন্দি করে রেলস্টেশন এলাকার বাস টার্মিনালের কাছে ফেলে রাখা হয়।

হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে বলে প্রথমদিকে ধারণা করা হলেও, বৃহস্পতিবার রাতেও ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক হলেন বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান সেলিম

আটক ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ

মরদেহ উদ্ধারের পরপরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল এবং নিহতের বাসা থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, সুরতহালে নিহতের গলা ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে মামলা দায়ের হতে পারে।

কারণ জানতে চলছে তদন্ত

পুলিশ বলছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল কিংবা কারা সরাসরি জড়িত—এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থল ও নিহতের বাসা থেকে সংগৃহীত আলামত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন—সবকিছু মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

তদন্ত শেষে হত্যার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।