Dhaka ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ২ জন এবার জাপানে বড় ধরনের পাহাড় ধসের শঙ্কা, সতর্কতা জারি পুকুর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সক্রিয় গ্রেনেড উদ্ধার ‘ইগো-অহংকারের কাছে জাতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া ঠিক নয়’: শিশির মনির দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর, তালাবদ্ধ ঘর থেকে ৩ মরদেহ উদ্ধার ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্ধ হতে পারে ৪ কোটি গ্রাহকের সিম লা.শ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শি.শুসহ আহত ৮ সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে যুবকের গলা কা টা লা শ উদ্ধার দালালকে ৩১ লাখ টাকা দিয়েও ফেরেনি ছেলে, লাশের অপেক্ষায় বৃদ্ধা মা

মোটরসাইকেল ‘চুরি করতে গিয়ে’ জনতার হাতে পুলিশ সদস্য আটক

সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মুরসালিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয় জনতা।

উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী যুবক মছকাপুর গ্রামের মাজেদ আহমদের দাবি, তার মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে হেতিমগঞ্জ বাজারে আসেন মুরসালিন। মোটরসাইকেল দেখার পর সেটি চালিয়ে দেখার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার সময় তার সন্দেহ হয়। পরে তারা পিছু নিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় সে নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। পরে তাকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে পুলিশ সদস্য মুরসালিনের দাবি, তিনি মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালিয়ে দেখার সময় স্থানীয়রা তাকে ভুল বুঝে চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করেন।

ঘটনার সময় মুরসালিনের সঙ্গে ওলিউর ইসলাম নামেরও একজন নিজেকে তার দাদা পরিচয় দেন। তিনি জানান, মুরসালিন মোটরসাইকেল কিনবে বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে হেতিমগঞ্জ বাজারে আসেন। পরে মুরসালিন মোটরসাইকেল দেখার কথা বলে তাকে রেখে চলে যান। এ সময় স্থানীয়রা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ভয়ে মুরসালিনকে চেনেন না বলে জানান। এদিকে ঘটনার পর মুরসালিনের সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলামকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুরসালিন মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যাওয়ার পর তাদের সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন মিলে তার পিছু নিয়ে তাকে আটক করেন। তখন তিনি পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জানা গেছে, মুরসালিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার পর ছুটি শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির বলেন, মুরসালিন এ মাসের শুরুতে ছুটিতে বাড়িতে যান। এরপর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগ দেননি।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিরযাগে বৃদ্ধসহ আটক ২

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছবেদ আলী বলেন, মুরসালিন নামের ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল কেনার জন্য হেতিমগঞ্জ বাজারে এসেছিলেন। মোটরসাইকেল ট্রায়াল দেওয়ার সময় সাধারণ মানুষ তাকে চোর সন্দেহে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখছি। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মুরসালিনের সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলাম নিজেকে তার দাদা পরিচয় দিলেও তার আচরণ স্বাভাবিক নয়। তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।

 

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ২ জন

মোটরসাইকেল ‘চুরি করতে গিয়ে’ জনতার হাতে পুলিশ সদস্য আটক

Update Time : ০২:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মুরসালিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয় জনতা।

উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী যুবক মছকাপুর গ্রামের মাজেদ আহমদের দাবি, তার মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে হেতিমগঞ্জ বাজারে আসেন মুরসালিন। মোটরসাইকেল দেখার পর সেটি চালিয়ে দেখার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার সময় তার সন্দেহ হয়। পরে তারা পিছু নিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় সে নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। পরে তাকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে পুলিশ সদস্য মুরসালিনের দাবি, তিনি মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালিয়ে দেখার সময় স্থানীয়রা তাকে ভুল বুঝে চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করেন।

ঘটনার সময় মুরসালিনের সঙ্গে ওলিউর ইসলাম নামেরও একজন নিজেকে তার দাদা পরিচয় দেন। তিনি জানান, মুরসালিন মোটরসাইকেল কিনবে বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে হেতিমগঞ্জ বাজারে আসেন। পরে মুরসালিন মোটরসাইকেল দেখার কথা বলে তাকে রেখে চলে যান। এ সময় স্থানীয়রা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ভয়ে মুরসালিনকে চেনেন না বলে জানান। এদিকে ঘটনার পর মুরসালিনের সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলামকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুরসালিন মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যাওয়ার পর তাদের সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন মিলে তার পিছু নিয়ে তাকে আটক করেন। তখন তিনি পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জানা গেছে, মুরসালিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার পর ছুটি শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির বলেন, মুরসালিন এ মাসের শুরুতে ছুটিতে বাড়িতে যান। এরপর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগ দেননি।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিরযাগে বৃদ্ধসহ আটক ২

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছবেদ আলী বলেন, মুরসালিন নামের ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল কেনার জন্য হেতিমগঞ্জ বাজারে এসেছিলেন। মোটরসাইকেল ট্রায়াল দেওয়ার সময় সাধারণ মানুষ তাকে চোর সন্দেহে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখছি। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মুরসালিনের সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলাম নিজেকে তার দাদা পরিচয় দিলেও তার আচরণ স্বাভাবিক নয়। তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।