Dhaka ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ২ জন এবার জাপানে বড় ধরনের পাহাড় ধসের শঙ্কা, সতর্কতা জারি পুকুর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সক্রিয় গ্রেনেড উদ্ধার ‘ইগো-অহংকারের কাছে জাতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া ঠিক নয়’: শিশির মনির দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর, তালাবদ্ধ ঘর থেকে ৩ মরদেহ উদ্ধার ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্ধ হতে পারে ৪ কোটি গ্রাহকের সিম লা.শ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শি.শুসহ আহত ৮ সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে যুবকের গলা কা টা লা শ উদ্ধার দালালকে ৩১ লাখ টাকা দিয়েও ফেরেনি ছেলে, লাশের অপেক্ষায় বৃদ্ধা মা

সৌদি গিয়েছিলেন ভাগ্য বদলাতে, ফিরছেন মরদেহ হয়ে

  • desk news
  • Update Time : ১১:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩১ Time View

সংসারের অভাব ঘোচাতে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন নাটোরের নলডাঙ্গার তিন যুবক। স্বপ্ন ছিল বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন, পরিশোধ করবেন ঋণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেছে তাদের।

এ ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয় এবং নাটোরের নলডাঙ্গার তিনজন। স্বজনদের কাছে এখন আর প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষা নেই; অপেক্ষা শুধু মরদেহ দেশে ফেরার।

নিহত তিনজন হলেন—নাটোরের খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়ার সাব্বির হোসেন শুভ, দিঘীরপাড়ের শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গার রবিউল আওয়াল হৃদয়।

নিহতদের মধ্যে একজন মাত্র সাত মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। অন্য দুজনের সৌদি যাত্রার বয়স তিন ও পাঁচ বছর। কৃষক পরিবারের এসব সন্তান মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে কাজ করে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করা এবং ঋণ পরিশোধ করা। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এখন তাদের পরিবারগুলোর কাঁধে স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি চেপে বসেছে ঋণের বোঝা।

পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা। একদিকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্বজনদের দাবি, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াক সরকার। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

বিদেশে গিয়ে আয় করে পরিবারের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। কিন্তু রিয়াদের সেই কারখানার আগুন শুধু তিনটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, পুড়িয়ে দিয়েছে তিন পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্নও। এখন শোক আর ঋণের বোঝা নিয়ে প্রিয়জনের মরদেহ ফেরার অপেক্ষায় নাটোরের তিন পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  আনন্দভ্রমণ পরিণত হলো শোকে,টাঙ্গুয়ার হাওরে গোসল করতে নেমে পর্যটকের মৃত্যু
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ২ জন

সৌদি গিয়েছিলেন ভাগ্য বদলাতে, ফিরছেন মরদেহ হয়ে

Update Time : ১১:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সংসারের অভাব ঘোচাতে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন নাটোরের নলডাঙ্গার তিন যুবক। স্বপ্ন ছিল বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন, পরিশোধ করবেন ঋণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেছে তাদের।

এ ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয় এবং নাটোরের নলডাঙ্গার তিনজন। স্বজনদের কাছে এখন আর প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষা নেই; অপেক্ষা শুধু মরদেহ দেশে ফেরার।

নিহত তিনজন হলেন—নাটোরের খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়ার সাব্বির হোসেন শুভ, দিঘীরপাড়ের শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গার রবিউল আওয়াল হৃদয়।

নিহতদের মধ্যে একজন মাত্র সাত মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। অন্য দুজনের সৌদি যাত্রার বয়স তিন ও পাঁচ বছর। কৃষক পরিবারের এসব সন্তান মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে কাজ করে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করা এবং ঋণ পরিশোধ করা। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এখন তাদের পরিবারগুলোর কাঁধে স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি চেপে বসেছে ঋণের বোঝা।

পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা। একদিকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্বজনদের দাবি, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াক সরকার। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

বিদেশে গিয়ে আয় করে পরিবারের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। কিন্তু রিয়াদের সেই কারখানার আগুন শুধু তিনটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, পুড়িয়ে দিয়েছে তিন পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্নও। এখন শোক আর ঋণের বোঝা নিয়ে প্রিয়জনের মরদেহ ফেরার অপেক্ষায় নাটোরের তিন পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  আনন্দভ্রমণ পরিণত হলো শোকে,টাঙ্গুয়ার হাওরে গোসল করতে নেমে পর্যটকের মৃত্যু