
নোয়াখালীর সেনবাগে পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার একদিন পর মো. মারুফ (২১) নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের মতইন দক্ষিণপাড়া হাজী বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মারুফ ওই এলাকার মো. রিপনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করেন মারুফ। একপর্যায়ে নিজের মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলেন তিনি। পরে জামাকাপড় একটি ট্রাভেল ব্যাগে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি।
মারুফ বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে রাত পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এরপর বুধবার রাতে বাড়ির কাছেই ধানক্ষেতসংলগ্ন একটি পুকুরপাড়ে স্থানীয়রা মারুফের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ছিল। বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলের কাছ থেকে মারুফের ব্যবহৃত ট্রাভেল ব্যাগ ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, মারুফের গলায় থাকা গামছার এক অংশ পুকুরপাড়ের একটি গাছের ডালের সঙ্গে বাঁধা ছিল এবং অন্য অংশ তার গলায় পেঁচানো অবস্থায় ছিল। গামছাটি পুরোনো হওয়ায় ছিঁড়ে যাওয়ার পর তিনি ধানক্ষেতের মধ্যে পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।