
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৬২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রবল স্রোতে বাড়িঘর, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগের মধ্যে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ১১ বছরের শিশু রিহানা লামিছানে বর্তমানে কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন। স্কুল বন্ধ ঘোষণার পর বাড়ি ফেরার পথে নদী পার হওয়ার সময় হঠাৎ প্রবল বন্যার স্রোতে পড়ে যায় সে। বুকে ও পায়ে আঘাত পেলেও শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয় তাকে।
রিহানা জানায়, “আমি নিরাপদ থাকতে পেরে খুশি। তবে আমার বন্ধুদের কী হয়েছে, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।” মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে এক বন্ধুর কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে তাকে খুঁজতে বের হন তার মা রিতা। পরে মেয়েকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৪ বছর বয়সী শ্রমিক বিবেক কুমারও ভয়াবহ স্রোত থেকে প্রাণে বেঁচে যান। রাসুয়া জেলায় কাজ করার সময় পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ার মুহূর্তে একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে জীবন রক্ষা করেন তিনি।
বিবেক বলেন, “গাছটি আঁকড়ে ধরে দেখতে পেলাম, যে বাড়িতে কাজ করছিলাম সেটি চোখের সামনে উধাও হয়ে গেল। আমগাছটি না থাকলে আজ আমি বেঁচে ফিরতাম না।”
জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের কিছুক্ষণ আগে ওই এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। তবে বুধবার সকালে নেপালে অনুভূত কম্পনটি ভূমিকম্পের কারণে হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)।
USGS-এর মতে, হিমবাহ ধসে পড়ার পাশাপাশি পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নেমে আসার ফলে ওই কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।