
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ইলিয়াছ হোসাইন (৩৮) নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানের আত্মহত্যার ঘটনায় করা মামলায় লাক্সমী রংডি (২৪) নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লাক্সমী বড়লেখা পলি ক্লিনিকের স্টাফ নার্স। তাঁর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন ইলিয়াছের বাবা মো. ইউসুফ আলী।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ আগস্ট রাত ১০টার দিকে বড়লেখা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুড়িরগুল গ্রামের নিজ বাড়িতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন ইলিয়াছ। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আত্মহত্যার আগে ইলিয়াছের সঙ্গে মুঠোফোনে এক নারীর উত্তপ্ত কথাবার্তা হয়। একপর্যায়ে ইলিয়াছ ‘আমি এখন আসতে পারব না’ বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর তাঁর বাবার মুঠোফোনে একটি কল আসে। ইলিয়াছের মা ফোনটি ধরলে অপর প্রান্তের নারী ইলিয়াছকে ফোন দিতে বলেন।
ইলিয়াছের মা জানান, তিনি ঘরে নেই। তখন ওই নারী দাবি করেন, ইলিয়াছ ঘরেই আছেন এবং তাঁকে ফোন দিতে বলেন। এরপর ইলিয়াছের মা তাঁর ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ পান। ধাক্কাধাক্কি করেও দরজা না খোলায় টিনের পার্টিশনের ফাঁক দিয়ে তিনি ইলিয়াছকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পুলিশ জানায়, ওই মুঠোফোন নম্বরের সূত্র ধরে কল করা নারী হিসেবে লাক্সমী রংডির পরিচয় পাওয়া যায়। পরদিন ১২ আগস্ট ইলিয়াছের বাবা মো. ইউসুফ আলী বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। পরে পুলিশ লাক্সমীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
### লাক্সমীকে ঘিরে যে অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ইলিয়াছ বিবাহিত এবং এক সন্তানের বাবা। পেশায় তিনি ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। বড়লেখা পলি ক্লিনিকে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের সূত্রে লাক্সমীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ইলিয়াছকে বিয়ে করার বিষয়ে লাক্সমীর আগ্রহ ছিল। এ কারণে তিনি পলি ক্লিনিকের চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন—এমন কথাও স্থানীয়ভাবে রয়েছে। তবে ক্লিনিকের এক মেডিকেল অফিসার তাঁকে অব্যাহতি দেননি বলেও আলোচনা রয়েছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি।
তবে লাক্সমী ইলিয়াছকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন কি না কিংবা চাকরি ছাড়ার সঙ্গে ইলিয়াছের আত্মহত্যার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মেডিকেল অফিসারের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
### কে এই লাক্সমী রংডি?
লাক্সমী রংডি কুলাউড়া উপজেলার সাহেবটিলা এলাকার বাসিন্দা ফরিদ সাংমার মেয়ে। তিনি প্রায় আড়াই বছর ধরে বড়লেখা পলি ক্লিনিকে স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘ইলেকট্রিশিয়ান ইলিয়াছ হোসাইনের আত্মহত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা পলি ক্লিনিকের নার্স লাক্সমী রংডিকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন। মামলার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
ইলিয়াছের আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।