দেবরের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে বিরোধের জেরে ভাবিকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর এবং তার অসুস্থ স্বামীকে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে দেবর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ষাটনল গ্রামের প্রধান বাড়ির। ভুক্তভোগী নার্গিস আক্তার (৪৫) তার দেবর কবির হোসেন প্রধান (৪০), দেবরের স্ত্রী শাহিনুর বেগম (৩৬) ও তাদের মেয়ে কাশফিয়া আক্তারকে (১৮) অভিযুক্ত করে মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
নার্গিস আক্তারের স্বামী মনির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। নার্গিস জানান, বিভিন্নজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে এবং কিস্তিতে টাকা তুলে তাদের সংসার চালাতে হচ্ছে। এর মধ্যেই স্বামীর চিকিৎসার জন্য দেবর কবির হোসেনের কাছ থেকে ৩১ হাজার টাকা ধার নেন তিনি।
নার্গিসের দাবি, ধার নেওয়া টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ২৬ হাজার টাকা দুই মাস পর পরিশোধের বিষয়ে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে দেবর বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর পাওনা টাকা নিয়ে চাপ বাড়তে থাকে।
এই টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়েই ২১ অক্টোবর সকালে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ বাধে বলে অভিযোগ নার্গিসের।
দেবরের মেয়ে তার ডান হাতের কবজিতে কামড় দিয়ে জখম করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক নারীকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করতে দেখা যায়।
নার্গিসের অভিযোগ, তার গলায় থাকা ছয় আনা ওজনের একটি সোনার চেইন নিয়ে গেছেন শাহিনুর বেগম। তার চিৎকার শুনে স্বামী মনির হোসেন ও মেয়ে মুনিয়া এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। অসুস্থ মনির হোসেনের বুকে লাথি মারা এবং মুনিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করার অভিযোগও করেছেন তিনি।
পরে আহত ব্যক্তিরা মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।