
এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সঙ্গে সরাসরি অঙ্গীভূত বা অধিভুক্ত করার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এর আগে কয়েক দিন ধরে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হলেও দাবি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় তারা রাজপথে নামার ঘোষণা দেন।
বুধবার শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় তাঁদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায় এবং তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শাবিপ্রবির অধীনে পরিচালিত হলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে। এই দ্বৈত ব্যবস্থার পরিবর্তন করে কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শাবিপ্রবির অধীনে নেওয়াই তাঁদের মূল দাবি।
আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের বৈঠক হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবি তুলে ধরেন। তবে বৈঠকের পরও দাবির বিষয়ে লিখিত বা সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
এর আগে শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এর ফলে কলেজের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি হলো—সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাবিপ্রবির অধীনে নেওয়া। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে; তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।