
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটে দুর্ভোগ বেড়েছে সিলেটবাসীর। কুমারগাঁওয়ের ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত দুই থেকে তিন দিন ধরে নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে।
কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকেরা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে গরমের মধ্যে বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও বিঘ্ন ঘটছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনের বেলায় কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি রাতেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক পরিবারকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প চালানো, রান্নাবান্না এবং মোবাইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যার পর সিলেট অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ২৫৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে প্রায় ১৯০ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়।
এই ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা ও ছোট কারখানাগুলোতে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
অনেক ব্যবসায়ী বিকল্প হিসেবে জেনারেটর বা ব্যাটারিচালিত যন্ত্র ব্যবহার করছেন। এতে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়ও।
লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে পড়াশোনা করতে পারছেন না। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নগরীর বাইরে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাতেও পরিস্থিতি কঠিন বলে জানিয়েছেন গ্রাহকেরা। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রভাব পড়ছে ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষিকাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়।
পিডিবি সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানিয়েছেন, কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গত তিন থেকে চার দিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিলেট অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে।
তিনি জানান, কেন্দ্রটির একটি ভালভে সমস্যা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনার পর মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। তবে কেন্দ্রটি পুরোপুরি সচল হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় জানানো সম্ভব হয়নি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দ্রুত সচল হলে সিলেট অঞ্চলের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এর মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে নগর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।