
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রাতে ঘুমিয়ে থাকা শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর নববিবাহিত পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত তরুণীকে আটক করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আহত নারীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই মাস আগে ওই তরুণীর সঙ্গে পরিবারের ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তিনি স্বামীর পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
ঘটনার রাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে হঠাৎ শাশুড়ির ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় ওই নারীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। তাঁর চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন।
আহত নারীকে প্রথমে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আহত নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা বলা হলেও পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত প্রমাণ তাদের হাতে আসেনি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন ধরনের দাবি ‘জিনের ঘাড়ে’
করা হয়েছে।
তাঁরা অভিযোগটি অস্বীকার করে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করছে না পুলিশ।
ঘটনার পর আহত নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে ফটিকছড়ি থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় হামলার ঘটনাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ অভিযুক্ত তরুণীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। একই সঙ্গে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং হামলার সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফটিকছড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয় এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের তদন্ত এবং আহত নারীর চিকিৎসা—দুই বিষয়েই এখন নজর রয়েছে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের।