সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রথম দিনেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি’ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা ডা. সুর্বনা রায় তুলি। তাঁর এ বক্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সিলেট সদর এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ডা. সুর্বনা রায় তুলির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জগন্নাথপুরে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সাংবাদিকেরা তাঁর পূর্বের কর্মস্থলে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দেবেন না।
অনুমতি নেওয়ার নিয়ম নেই: উপপরিচালক
তবে সুনামগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক তপন কান্তি ঘোষ জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা বা বক্তব্য দেওয়ার আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার কোনো নীতিমালা নেই।
তিনি জানান, গণমাধ্যমকর্মীরা সরকারি কার্যক্রম, সেবা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেন। এ জন্য আলাদা করে অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে—এমন কোনো নিয়ম তার জানা নেই।
উপপরিচালকের এমন বক্তব্যের পর কর্মকর্তা ডা. সুর্বনা রায় তুলির ‘অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে কথা বলব না’ মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আগের কর্মস্থলে অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট সদর এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় ডা. সুর্বনা রায় তুলির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগগুলোর মধ্যে সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়মসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পরে তাকে জগন্নাথপুরে বদলি করা হয়। তবে বদলির কারণ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর এসব বিষয়ে জানতে সাংবাদিকেরা তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিষয়টি সামনে আনেন।
সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ
স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে গণমাধ্যমের কাছে তথ্য সরবরাহের বিষয়টি সরাসরি জনগণের তথ্য জানার অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো সরকারি কার্যক্রম বা জনসেবামূলক বিষয়ে তথ্য জানতে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে অযথা তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করা উচিত নয়।
তাদের মতে, কোনো কর্মকর্তা যদি নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে বক্তব্য দিতে না চান, সেটি তার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু গণমাধ্যমে কথা বলার জন্য সর্বক্ষেত্রে ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি’ প্রয়োজন—এমন বক্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনার মতো সরাসরি জনসেবার সঙ্গে যুক্ত একটি সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে তথ্য জানাতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগাযোগ স্বচ্ছ ও সহযোগিতামূলক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন
সরকারি দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই ও তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। একইভাবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানাও সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ কারণে ডা. সুর্বনা রায় তুলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং তার নিজের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জগন্নাথপুরে যোগদানের প্রথম দিনেই গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতির বিষয়টি সামনে আসায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি কর্মকর্তাদের গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আসলে কী ধরনের নিয়ম রয়েছে এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ভূমিকা কতটা হওয়া উচিত।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।