জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কটাক্ষ ও অবমাননার অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের তিন নেতা শাহবাগ থানায় এ অভিযোগ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন। তিনি জানান, অভিযোগকারীরা শাওন ও মাহির বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছিলেন। তবে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর তাদের লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই রায়হানকে।
এসআই স্বপন আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখানে অভিযোগে উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংকগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে এক হাজার চার শতাধিক মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি জুলাই আন্দোলন, এর স্মৃতিচিহ্ন ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে অবমাননাকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।
অভিযোগে প্রথমে শান্তা ফারজানা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ ও আঘাত করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ভিডিও শহীদদের স্মৃতির প্রতি অবমাননাকর।
মেহের আফরোজ শাওনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন ভিডিওবার্তায় জুলাই আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বা ‘সাজানো ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং আন্দোলন ও রাষ্ট্র নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কিছু বক্তব্যে তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের কর্মকাণ্ডকে কটাক্ষ করেছেন এবং ‘অভিনয়’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হেয় করা হয়েছে এবং এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এদিকে গত ১ জুলাই জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তির সূচনালগ্নে মেহের আফরোজ শাওনের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ যেহেতু পয়লা জুলাই, তাই আমিও লিখলাম #জুলাইCDI…’। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
তবে অভিযোগে আনা বিষয়গুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ভিডিও, পোস্ট ও লিংক যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।