
সিলেট নগরের রায়নগর আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে বৃদ্ধ দম্পতি ও তাঁদের গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। চুরি-ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—বাসার মালিক ব্যবসায়ী আব্দুস সত্তার মিয়া (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৫) এবং তাঁদের গৃহপরিচারিকা (২৫)।
পুলিশ জানায়, তিনজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বাসার ওয়ারড্রপ ও আলমারি খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। স্বর্ণালংকারসহ দামি জিনিসপত্র খোয়া গেছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ কারণে চুরি বা ডাকাতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধ ও অন্য কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, সকালে প্রতিবেশীরা বাসার দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখেন এবং দরজা বন্ধ পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, বাসার একজন ভাড়াটিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী সকালে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা গেছে। সে অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডটি সকালে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একটি বিশেষ দল কাজ করছে। পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটও ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
নিহত আব্দুস সত্তার মিয়া চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। তিনি রায়নগরের নিজ বাসায় বসবাস করতেন। তাঁর চার সন্তানের মধ্যে দুই সন্তান লন্ডনে এবং দুই সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।
এদিকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।