
সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিপুলসংখ্যক রোগী প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসায় সীমিত জনবল দিয়ে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও কর্মীরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৭৪টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৫ জন। অর্থাৎ চিকিৎসকের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি পদই শূন্য। কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যেও বিভিন্ন সময়ে ৫ থেকে ৬ জন ছুটিতে থাকেন। ফলে কোনো কোনো দিন হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকের সংখ্যা আরও কমে যায়।
শুধু চিকিৎসক নয়, নার্সসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। হাসপাতালটিতে ২৬৩ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও ফাংশনাল নার্স রয়েছেন ১৫০ জন। পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্টের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ফার্মাসিস্টের প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য রয়েছে।
জনবল সংকটের মধ্যেই গত সাত থেকে আট মাস ধরে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। কোনো কোনো দিনে এই সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে যায়।
২৫০ শয্যার হাসপাতালের নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর এই চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও কর্মীদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ছে। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেককে দীর্ঘ সময় চিকিৎসকের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
হাসপাতালে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শয্যার সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শিশু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
জয়নগর এলাকার এক রোগীর স্বজন জানান, শিশুকে নিয়ে সকালে হাসপাতালে এসে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসকের খোঁজ করতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক কম।
অন্য এক রোগী জানান, কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একজন চিকিৎসককে একসঙ্গে অনেক রোগী দেখতে হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ না পাওয়া এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বল্পতা নিয়েও রোগীদের অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন রোগী।
হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ জানান, হাসপাতালে ৭৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৫ জন। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৫ থেকে ৬ জন ছুটিতে থাকেন।
তিনি জানান, ২৬৩ জন নার্সের বিপরীতে ফাংশনাল নার্স রয়েছেন ১৫০ জন। এ ছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ফার্মাসিস্টের প্রায় ৫০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক আরও জানান, ২৫০ জন রোগীর জন্য যে পরিমাণ বরাদ্দ ও জনবল কাঠামো রয়েছে, সেই ব্যবস্থাপনা দিয়েই বর্তমানে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। কোনো কোনো দিন রোগীর সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে যায়।
তাঁর মতে, প্রয়োজনের তুলনায় হাসপাতালের ম্যানপাওয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ফলে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে চিকিৎসক ও কর্মীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।