
অনেকে এটিকে দুই প্রজন্মের লড়াই হিসেবে দেখছেন। আলকারাজ ও জকোভিচের মুখোমুখি ৯ ম্যাচে জকোভিচ ৫ বার জিতেছেন, তবে গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার ক্ষেত্রে আলকারাজ এগিয়ে—৩-২ ব্যবধানে। ষোলো বছরের কম বয়সে আলকারাজ জকোভিচকে হারিয়েছিলেন ২০২৪ সালের উইম্বল্ডন ফাইনালে। জকোভিচ ‘বদলা’ শব্দটি পছন্দ না করলেও, আজকের ম্যাচে জয়লাভ করলে সেই হারকে অন্তত কিছুটা ভুলে যেতে পারবেন।
দুজনেরই ক্লান্তি চোখে পড়ে। সেমিফাইনালে আলকারাজ ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের ম্যারাথন ম্যাচের পর প্রায় ৩২ ঘণ্টা বিশ্রাম পেয়েছেন। অন্যদিকে, ৩৮ বছরের জকোভিচ সেমিতে ৫ ঘণ্টা ১২ মিনিট খেলেছেন এবং প্রায় ২৪ ঘণ্টা বিশ্রাম পেয়েছেন।
আজকের ফাইনালটি হবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ইতিহাসে একটি বিশেষ ম্যাচ। সার্বিয়ান তারকা জকোভিচ ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের হাতছানিতে; যা তাকে নারী ও পুরুষ এককে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ডে পৌঁছে দেবে, ভেঙে দেবে মার্গারেট কোর্টের ২৪ গ্র্যান্ড স্লাম জয় রেকর্ড। অন্যদিকে, স্প্যানিশ তারকা আলকারাজ ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কম বয়সে চারটি ভিন্ন গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে মাঠে নামছেন।
ফেদেরার ও নাদালের যুগের প্রতিনিধি হিসেবে এখনও সক্রিয় জকোভিচের সামনে সাম্প্রতিক সময়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন নাদালের পরবর্তী স্প্যানিশ তারকা আলকারাজ। নাদালের মতোই আলকারাজের মধ্যে রয়েছে অসাধারণ গতি এবং শক্তিশালী সার্ভিস। ২০২২ সালে তাদের প্রথম দ্বৈরথ হয় মাদ্রিদ ওপেনে। সর্বশেষ দেখা হয়েছিল গত বছরের ইউএস ওপেন সেমিফাইনালে, যেখানে আলকারাজকে শক্তিশালী মনে হয়েছিল। ম্যাচের ফলাফল ছিল জকোভিচের পক্ষে, ৬-৪, ৭-৬ (৭-৪), ৬-২।
রাফায়েল নাদাল আজ আলকারাজের পক্ষে সমর্থন জাহির করেছেন। শুধু দেশীয় হওয়ার কারণে নয়, বয়সের কারণে আলকারাজকে সমর্থন দিচ্ছেন নাদাল। তিনি বলেছেন, “কার্লোস এখন তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছে, তরুণ, শক্তিশালী এবং ফিট। তবে নোভাক নোভাকই—তার একনিষ্ঠতা ও পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা অসাধারণ। এই বয়সেও সে দুর্দান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টেনিস খেলছে, যা সাধারণত দেখা যায় না।”