
দেশের জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির কনডেনসেট পরিশোধনাগার থেকে উৎপাদিত হচ্ছে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিন। এর মধ্যে দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
জ্বালানি উৎপাদন আরও বাড়াতে নতুন প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি তেলকূপসহ মোট ১৫টি কূপ খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির দুটি কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ব্যারেল পেট্রোল, ৬০০ ব্যারেল অকটেন, ১৫০ ব্যারেল ডিজেল ও ১০০ ব্যারেল কেরোসিন উৎপাদিত হয়। পাশাপাশি দৈনিক প্রায় পাঁচ টন এলপিজিও উৎপাদন করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত জ্বালানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়। এসব জ্বালানি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দুটি প্ল্যান্টের দৈনিক পরিশোধনক্ষমতা সাত হাজার ব্যারেল হলেও প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৩৫০ ব্যারেল কনডেনসেট পরিশোধনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।
উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে নতুন একটি ইউনিট স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। তবে বর্তমান জমিতে নতুন ইউনিট স্থাপনের সুযোগ সীমিত হওয়ায় পাশের জমি ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ ও ২০৩৫ সালকে সামনে রেখে পর্যায়ক্রমে ৩০০টি গ্যাসকূপ খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম পর্যায়ে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড একটি তেলকূপসহ ১৫টি কূপ নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ করা ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সঙ্গে আরও ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। গ্যাস উৎপাদন বাড়লে কনডেনসেটের প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্বালানি তেল উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সম্ভাবনাময় এলাকায় গভীর কূপ খনন এবং পুরোনো কূপগুলোতে তেলের উপস্থিতি যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মতে, পরিকল্পিত অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের উৎপাদন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে সিলেটের অবদান আরও বাড়তে পারে।