
দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৃহৎ প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
পরিকল্পনার আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানির অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে, সেসব অঞ্চলের মানুষের জন্য নিরাপদ পানির সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর মানুষের নির্ভরতা বেশি। কোথাও কোথাও ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা, আর্সেনিকসহ বিভিন্ন দূষণের ঝুঁকি রয়েছে। আবার উপকূলীয় ও দুর্গম অঞ্চলের অনেক মানুষ সারা বছর নিরাপদ পানির সংকটে ভোগেন। এসব সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
নতুন পরিকল্পনায় শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের পানির চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপদ পানি সরবরাহের পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, পরিশোধন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বড় পরিসরের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ পানির সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দূষিত পানি পানজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। পানির উৎস সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে পানি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।
দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ পানির চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদী ও জলাশয় দূষণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে পানির সংকট আরও বাড়তে পারে। এ কারণে এখন থেকেই সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ পানি সরবরাহে দেশের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।