সৌদি আরবে দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কুমিল্লার মো. রাসেল মিয়া। স্ত্রী-সন্তানদের জন্য কিনেছিলেন পছন্দের বিভিন্ন উপহারসামগ্রী। কিন্তু পরিবারের জন্য কেনা সেই উপহার নিয়ে আর দেশে ফেরা হলো না তাঁর। দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই সৌদি আরবে আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে এই প্রবাসীর।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কেনাকাটা করা মালামাল গোছানোর সময় হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন রাসেল মিয়া। পরে সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রাসেল মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানাশুয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হাকিম।
নিহত রাসেল মিয়া কুমিল্লা সদর উপজেলার বানাশুয়া গ্রামের উত্তরপাড়ার মৃত সুন্দর আলীর ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।
স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কর্মরত ছিলেন রাসেল মিয়া। প্রায় সাত মাস আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। এবার স্ত্রী-সন্তানদের আগ্রহে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
দেশে ফেরার আগে পরিবারের সদস্যদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনেন রাসেল। শনিবার দুপুরে সেসব মালামাল গোছানোর সময় হঠাৎ তাঁর বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরিস্থিতি দেখে সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হঠাৎ করে রাসেলের মৃত্যুর খবরে সৌদি আরবে থাকা তাঁর সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কুমিল্লার বানাশুয়া গ্রামের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম।
পরিবারের স্বপ্ন ছিল, দুই দশকেরও বেশি প্রবাসজীবন শেষে এবার আপনজনদের কাছে ফিরবেন রাসেল। স্ত্রী-সন্তানদের জন্য কেনা উপহারও ছিল সেই ফেরার আনন্দের অংশ। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই থেমে গেল তাঁর জীবনের পথচলা।