
বগুড়ায় পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুমকে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নাজিম উদ্দিন নামে এক আসামি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে নাজিমকে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার চাপকে কেন্দ্র করে সহযোগী স্বপনের সঙ্গে মিলে ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় ওয়াহেদের সঙ্গে নাজিম ও স্বপনের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ওয়াহেদ তার মায়ের নামে নেওয়া ঋণের টাকা থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে পরে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গত ৭ আগস্ট ওয়াহেদকে মালগ্রাম এলাকার ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ডেকে নেন নাজিম ও স্বপন। সেখানে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাকে পান করানো হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে কাছাকাছি একটি ধানখেতে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর দুজনই আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে নাজিম জানিয়েছেন। ঘটনায় অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিহত ওয়াহেদ শহরের সূত্রাপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। বাবার সঙ্গে তিনি স্টেশন সড়কে ফলের ব্যবসা করতেন। ৭ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়।
এর পাঁচ দিন পর মালগ্রামের একটি ধানখেত থেকে বস্তাবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় প্রথমে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। পরে পোশাক ও অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে স্বজনেরা সেটি ওয়াহেদের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ১০ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।