
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ৪৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিচয় ও নাম পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই তার পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
নিহতের বন্ধু আব্দুল জলিল বলেন, ‘এটা খুবই খারাপ ঘটনা। এই মুহূর্তের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’ জানা যায়, জলিলের সঙ্গে একই রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন নিহত ব্যক্তি। তিনি ছিলেন একজন স্বামী ও সন্তানের বাবা। তার পরিবার বাংলাদেশের নিজ এলাকায় বসবাস করে বলে জানিয়েছেন জলিল।
এ ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের রেস্তোরাঁটির ভেতরেই গুলির ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে রক্তসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও নথিবদ্ধ করতে দেখা যায় তদন্তকারীদের। সন্দেহভাজন হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে রেস্তোরাঁটির সিসিটিভি ফুটেজ সহায়তা করতে পারে বলে আশা করছে পুলিশ।
রেস্তোরাঁর মালিক শেখ রাসেল বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি বিনা উসকানিতেই ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তারা ওই লোকটিকে চিনতো না। লোকটি হঠাৎ সেখানে এসে হাজির হয়। যতদূর জানি, তাদের মধ্যে কোনো ধরনের তর্ক-বিতর্কও হয়নি।’
নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রেস্তোরাঁটির কার্যক্রম পরিচালনায় তাকে সহযোগিতা করতেন জানিয়ে রাসেল বলেন, ‘তার মৃত্যু আমার জন্য বিশাল ক্ষতি। এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ করব, আমি জানি না।’ আবদুল জলিলও নিহত ব্যক্তির প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ ছিলেন।’
রেস্তোরাঁয় এমন সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারাও হতবাক হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মেলভিন আরবি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে এই এলাকায় দোকানের ভেতরে বড় ধরনের ছিনতাইয়ের কথাও শুনিনি। আর একটি দোকানের ভেতরে এমন হত্যাকাণ্ড—এটা সত্যিই ভয়াবহ। আজ ওই পরিবারের সদস্যরা কী অনুভব করছেন, তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না।’