রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে প্রায় ১৭ কেজি ওজনের একটি পাঙাশ মাছ ধরা পড়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নদীর মোহনায় জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে। একই সময় জালে প্রায় ৮ কেজি ওজনের আরেকটি পাঙাশ মাছ ধরা পড়ে।
মাছ দুটি নিলামে তোলা হলে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী সোহেল মোল্লা ১৭ কেজি ওজনের পাঙাশটি ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকায় এবং ৮ কেজি ওজনের মাছটি ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে ১৪ হাজার ৪০০ টাকায় কিনে নেন।
সোহেল মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, বড় মাছটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। ঢাকার এক ক্রেতার কাছে ২ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রির জন্য দরদাম চলছে। সেই হিসাবে মাছটির দাম দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ১০০ টাকা।
জানা গেছে, জেলে নিরঞ্জন হালদার ও তার সঙ্গীরা মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জ এলাকা থেকে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যান। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ভাটিতে জাল ফেলে তারা ভাটির দিকে যেতে থাকেন। ১০-১২ কিলোমিটার ভাটিতে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মজলিশপুর এলাকার পদ্মা নদীর মোহনায় পৌঁছালে জালে বড় ধরনের ঝাঁকুনি অনুভব করেন তারা। তখন তারা বুঝতে পারেন, বড় কোনো মাছ জালে আটকা পড়েছে। পরে জাল তুলে তারা বড় পাঙাশ মাছটি দেখতে পান।
এরপর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বেলা তিনটার দিকে মাছটি দৌলতদিয়া বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের প্রয়াত সভাপতি মোহন মণ্ডলের আড়তে নেওয়া হয়। সেখানে মাছটি নিলামে তোলা হয়। নিলামে সোহেল মোল্লা সর্বোচ্চ দর দিয়ে মাছদুটি কিনে নেন।
দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার সুমাইয়া মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী সোহেল মোল্লা বলেন, ১৭ কেজি ওজনের পাঙাশটি ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকায় কিনেছি। মাছটি ঢাকার এক ব্যক্তির কাছে বিক্রির জন্য কথা চলছে। তার কাছে ২ হাজার ৩০০ টাকা কেজি বিক্রির দাম বলে দিয়েছেন। দরদাম চূড়ান্ত হলে মাছটি বিক্রি করে দেব।
সোহেল মোল্লা আরও বলেন, ৮ কেজি ওজনের পাঙাশটিও ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে ১৪ হাজার ৪০০ টাকায় কিনেছেন। পরে ১ হাজার ৯০০ টাকা কেজি দরে ১৫ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
সোহেল মোল্লার ভাষ্য, পদ্মা নদীতে বর্তমানে বড় মাছের আকাল চলছে। প্রায় দুই মাস পর ১৭ কেজি ওজনের একটি বড় পাঙাশ মাছ ধরা পড়েছে। আগে মাঝেমধ্যে বড় মাছ ধরা পড়লেও সম্প্রতি নদীতে বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে এক-দুটি মাছ পাওয়া যায়। সেগুলোও অনেক সময় নদীপথেই বিক্রি হয়ে যায়।