ল্যাব টেকনিশিয়ান কিংবা ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট কোনোটিই তার পদ নয়। নিয়োগ পেয়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে। তবুও মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে রোগীদের শরীর থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে দেখা গেছে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোঃ নায়েম ইসলামকে। এনপিবির অনুসন্ধান ও গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে উঠে এসেছে এমন চিত্র।
জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে তিনি প্যাথলজি বিভাগের একটি বুথে রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহের কাজ করে আসছিলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের দুই নম্বর বুথে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করছেন তিনি। তার পদবি জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে নায়েম সেটি বাসায় রেখে এসেছেন বলে জানান।
রক্ত সংগ্রহের দায়িত্ব কীভাবে পেলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করেন। পরে প্রতিবেদকের উপস্থিতি ও ক্যামেরার বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে দ্রুত ওই বুথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ উজ্জ্বল মিস্ত্রী বলেন, বাইরে যারা ব্লাড কালেকশন করেন সেখানে আমাদের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে ব্লাড কালেকশন করা সম্ভব না। কারণ আমাদের জনবল নেই। জনবল নেই বলে আউটসোর্সিং এর স্টাফ দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। তবে নায়েমের নিয়োগের পদ পরিচ্ছন্নতাকর্মী কি না এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করালেও তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তার দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এমন হচ্ছিল। তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষ যাকে যেখানে দেবে তার তাকে নিয়েই তো কাজ করতে হবে।
এ অবস্থায় জেলার সচেতন মহলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদে নিয়োগ পাওয়া একজন কর্মীকে রক্ত সংগ্রহের কাজে দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় তার প্রশিক্ষণ, পেশাগত যোগ্যতা এবং দায়িত্ব অর্পণের প্রক্রিয়া নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
রক্তদানকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধন সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ শাখার সভাপতি তানভীর আহমেদ সিফাত বলেন, অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে এ ধরনের কাজ করানো হলে রক্তদাতা ও রোগী উভয়ের মধ্যেই ভয়-ভীতি তৈরি হতে পারে। এতে মানুষ রক্ত দিতে উৎসাহ হারাতে পারেন। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, যার যেটা দায়িত্ব সে যদি সেটা করতে না পারে তাহলে সেবা গৃহীতা বা রোগী যারা রয়েছেন তারা ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই আমি মনে করি এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যারা রয়েছেন জরুরী ভিত্তিতে তাদের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন এবং এ ধরনের ভুল যেন আর না হয় সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক ডাঃ মোঃ মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বলেন, আমার নলেজে ছিল না পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে রক্তের স্যাম্পল কালেকশন করছে। বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজখবর নিয়েছি এবং যারা এই কাজের জন্য যোগ্য তাদেরকে বসিয়েছি। এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে সরিয়ে অন্য জায়গায় দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও আমরা বিষয়টি দেখবো এবং যে যে কাজের জন্য যোগ্য আমরা তাকে সেখানেই বসাবো। তবে জনবল সংকটের সময়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখতে অনেক সময় কর্মীদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে হয় বলেও জানান তিনি।