
পৃথিবীর সবচেয়ে ধীরগতির প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম স্লথ। গাছের ডালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝুলে থাকা, ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া আর দীর্ঘ সময় বিশ্রামে কাটানো—সব মিলিয়ে প্রাণীটির জীবনযাপন দেখলে মনে হয়, কোনো কাজেই যেন তার তাড়া নেই!
স্লথের শরীরে বিপাকক্রিয়া খুব ধীরগতিতে চলে। ফলে অন্যান্য অনেক প্রাণীর তুলনায় তার শরীরে শক্তি উৎপাদন ও খরচের হারও কম। এ কারণেই স্লথকে খুব বেশি খাবার খেতে বা দ্রুত চলাফেরা করতে হয় না।
শুধু চলাফেরাই নয়, স্লথের শরীরের অনেক কার্যক্রমই ধীরগতির। এমনকি তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের হারও তুলনামূলক ধীর। ফলে মজা করে বলা হয়, স্লথ যেন শ্বাস নিতেও আলসেমি করে!
তবে সত্যিকার অর্থে স্লথ শ্বাস নিতে আলসেমি করে না। এটি তার শরীরের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কম শক্তি খরচ করে বেঁচে থাকার জন্য তার পুরো জীবনযাপনই ধীরগতির হয়ে গড়ে উঠেছে।
স্লথের প্রধান খাবার বিভিন্ন ধরনের পাতা। পাতায় তুলনামূলকভাবে কম শক্তি থাকায় স্লথের হজম প্রক্রিয়াও ধীর। তাই খাবার হজম করতেও তাদের অনেক সময় লাগে।
গাছের ডালে ঝুলে থাকা স্লথকে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রায় একই অবস্থায় দেখা যায়। প্রয়োজন ছাড়া তারা খুব একটা নড়াচড়া করে না। ধীরগতির এই জীবনযাপন তাদের শিকারিদের নজর এড়াতেও সাহায্য করে।
স্লথের শরীরে শৈবাল জন্মানোর ঘটনাও বেশ চমকপ্রদ। তাদের লোমে শৈবাল জন্মালে শরীর অনেক সময় সবুজাভ দেখায়। এতে গাছের পাতার সঙ্গে মিশে গিয়ে শিকারির চোখে কম পড়তে পারে।
তাই স্লথকে শুধু অলস প্রাণী বললে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। তার ধীরগতিই আসলে প্রকৃতির সঙ্গে টিকে থাকার এক অসাধারণ কৌশল। চলাফেরা, খাবার হজম কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাস—সবকিছুতেই ধীরগতির এই প্রাণী সত্যিই প্রাণিজগতের এক বিস্ময়।