
ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার গঙ্গা নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট চার আসনের প্রশিক্ষণ বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন গুজরাটের শচিন ভাটিয়া ও কর্নাটকের অভিষেক পূজারি। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের একজন প্রশিক্ষণার্থী এবং অন্যজন প্রশিক্ষক হিসেবে ওই বিমানে ছিলেন।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কানপুরের গার্গ এভিয়েশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রায় ২০ মিনিট পর কেন্দ্রে ফেরার সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গঙ্গা নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জরুরি সেবা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনার তীব্রতায় বিমানের ধাতব অংশগুলো দুমড়েমুচড়ে যায়। ডানা ও সাদা প্যানেলের বিভিন্ন অংশও ভেঙে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন।
কানপুর নগরের পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানান, নিহত প্রশিক্ষকের প্রায় ৩ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা ছিল। দুর্ঘটনার বিষয়টি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিচালকের (ডিজিসিএ) দপ্তরকে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তাদের একটি দল তদন্ত করবে।
প্রশিক্ষণ বিমানটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া বা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্তের পরই জানা যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত প্রশিক্ষণ বিমানটি ২০২৩ সালে গার্গ এভিয়েশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আনা হয়েছিল।
এ ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দুই পাইলটের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি কামনা করেছেন।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।