ইতালিতে হামলা ও হয়রানির ঘটনার কয়েক দিন পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওই ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
বাঁধনের অভিযোগ, ইতালিতে তাকে শুধু গালাগাল বা স্লোগান দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি হামলাকারীরা; বরং তার গায়ে হাতও তোলা হয়েছে। এমন আচরণ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনার কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মনে করেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের এমন আচরণ বিদেশিদের কাছে দেশের মানুষের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা ব্যক্তিগত বিষয় হলেও কোনোভাবেই অন্ধ সমর্থনে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। তিনি দাবি করেন, বিদেশে থাকা বড় নেতারা তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন, কিন্তু মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কোনো আইনি জটিলতায় পড়লে তার প্রভাব তাদের পরিবারের ওপর পড়তে পারে।
বাঁধন আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যে প্রভাবিত হয়ে এমন কোনো কাজে জড়ানো উচিত নয়, যার পরিণতি ভবিষ্যতে পরিবারকে ভোগ করতে হতে পারে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের সিনেমার টিম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তার অভিযোগ, ঘটনার পর দলের পক্ষ থেকে তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। এমনকি টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকেও তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাঁধনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় অবস্থানের কারণেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি হামলাকারীদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করেছেন।
এর আগে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রতিনিধি হিসেবে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেন বাঁধন। ৬ সেপ্টেম্বর সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনী শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বের হওয়ার পর তিনি হামলা ও হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রতিবাদ দেখা যায়। দেশে ফেরার পরও ওই ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন বাঁধন।