
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস। হৃদরোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, ঝুঁকি কমানো এবং সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করাই দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলাদেশেও হৃদরোগ একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
হৃদরোগকে একসময় মূলত বয়স্কদের সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও এ রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, ধূমপান এবং শরীরচর্চার অভাব তরুণদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বয়স কম হলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
বুকে চাপ বা অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরা কিংবা সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য বর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগ প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।