
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মসজিদের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি টিনের তৈরি মসজিদে ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়া মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ২০০১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি টিনের মসজিদ নির্মাণ করা হয়। তবে যাতায়াতের সুবিধার জন্য নির্ধারিত জায়গার পরিবর্তে প্রায় ২০০ মিটার দূরে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মসজিদের নির্ধারিত জায়গা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে অপর পক্ষ নির্ধারিত জায়গায় আরেকটি টিনের মসজিদ নির্মাণ করে। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদটিতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, মসজিদের মাইক, ফ্যানসহ বিভিন্ন সামগ্রীও ভাঙচুর করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সোহরাব আলী (৫৫), ফরিদুল ইসলাম (৩৫), নুর আলম (৩০), ফরিদুল ইসলাম (৩৪), ডাবলু হোসেন (৪০), রেজাউল প্রামাণিক (৪২), আয়েশা বেগম (৫৫), সুমি খাতুন (৩০) ও গোলছারা বেগম (৫৫)।
সোহরাব আলীর অভিযোগ, ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
অন্যদিকে অপর পক্ষের আবুল কালাম দাবি করেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার প্রস্তাব নিয়ে তিনি মসজিদে গেলে তাকে আটকে রাখা হয়। পরে স্বজনরা মসজিদের বেড়া ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর দুই পক্ষ আবারও মুখোমুখি অবস্থান নেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।