
কুষ্টিয়ায় নিজের বাড়ি ও গুদামে হামলা-ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা করেছিলেন ৬৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগম। সেই মামলার বাদী হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নূরজাহান বেগমকে পুলিশ নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, মামলার বিষয়ে কথা বলার কথা বলে তাকে থানায় নেওয়া হলেও পরে একটি পৃথক মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর এলাকায় মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর ২১ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেন নূরজাহান বেগম। মামলায় তার বাড়ি ও গুদামে হামলা, ভাঙচুর এবং আগুন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে ১৬ সেপ্টেম্বর পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক দলের একটি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় পৃথক একটি মামলা করা হয়। মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সেখানে থাকা নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে নূরজাহান বেগমের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণেই তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে নূরজাহানের পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তিনি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। বরং নিজের বাড়ি ও গুদামে হামলার ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মামলা করার পরই তাকে অন্য মামলায় আসামি করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নূরজাহানকে সকালে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় থানায় রাখা হয়। পরে বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা তার গ্রেপ্তারের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নূরজাহানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশের দাবি বর্তমানে তদন্তাধীন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে নিজের বাড়ি ও গুদামে হামলার ঘটনায় করা মামলার বাদী হিসেবে নূরজাহানের ভূমিকা, অন্যদিকে পৃথক নাশকতার মামলায় তার গ্রেপ্তার—দুই বিষয় নিয়েই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই নূরজাহানকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষ হলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।