
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থানাভিত্তিক মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন ক্লীন্টন সাহা। নিয়োগের জন্য নির্বাচিতও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চূড়ান্ত যাচাইয়ের সময় স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি।
ক্লীন্টনের পরিবারের দাবি, নদীভাঙনে একাধিকবার তাঁদের বসতভিটা বিলীন হয়েছে। ফলে বর্তমানে তাঁদের নিজস্ব কোনো স্থায়ী বসতভিটা নেই। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা চট্টগ্রাম নগরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
ক্লীন্টনের আদি বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায়। ছোটবেলায় নদীভাঙনের কারণে পরিবার নিয়ে তাঁরা চট্টগ্রামে চলে আসেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, কয়েক দফা নদীভাঙনে তাঁদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ বিলীন হয়ে গেছে।
এরপর থেকে চট্টগ্রাম নগরের মোগলটুলী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তাঁরা। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে বসবাস করলেও স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে চাকরির যাচাই প্রক্রিয়ায় সমস্যায় পড়েন ক্লীন্টন।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সংশ্লিষ্ট তালিকায় ক্লীন্টনের মেধাক্রম ছিল দ্বিতীয়। তাঁর সঙ্গে নির্বাচিত অন্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিয়োগপত্র পাননি।
ক্লীন্টনের দাবি, যাচাইয়ের সময় তিনি তাঁর পরিবারের বাস্তব পরিস্থিতি কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেন। নদীভাঙনে তাঁদের পুরোনো বসতভিটা বিলীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও জানান। কিন্তু স্থায়ী ঠিকানার জটিলতা নিরসন না হওয়ায় তাঁর নিয়োগ আটকে যায়।
ক্লীন্টন সাহা চট্টগ্রাম কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের শিক্ষার খরচ চালিয়েছেন তিনি।
পরিবারের আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। বাবার বয়স হয়েছে এবং তিনি অসুস্থ। পরিবারের দায়িত্বের একটি বড় অংশ ক্লীন্টনের ওপর।
এ অবস্থায় সরকারি চাকরিটি তাঁর পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মেধাতালিকায় ভালো অবস্থানে থেকেও চাকরি না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি।
ক্লীন্টন বলেন, নদীভাঙনের কারণে স্থায়ী বসতভিটা হারানো তাঁর নিজের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়িঘর হারানোর পরও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন।
এখন তাঁর দাবি, বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করে তাঁকে নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হোক।
ঘটনাটি সামনে আসায় নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের স্থায়ী ঠিকানা এবং সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁদের নানা ধরনের জটিলতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।