
মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবনের সূচনা। এরপর দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা। সেখান থেকে এবার যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে পিএইচডি গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন সিলেটের মেধাবী তরুণ শাহ উসামা হাসান।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার নতুন অধ্যায় শুরু করতে গত ৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন তিনি। তার এই অর্জনে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।
শাহ উসামা হাসানের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধা ও কৃতিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। প্রাথমিক ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন।
এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। সেখানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন কৃতিত্বের সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার প্রতিও তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
উসামার আগ্রহের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র গবেষণা। উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং তা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়েই তিনি পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে পিএইচডির সুযোগ তার দীর্ঘদিনের একাডেমিক ও গবেষণামূলক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন স্বজনরা।
শাহ উসামা হাসানের শিক্ষাজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায়ও তার আগ্রহ ও দক্ষতা। তিনি আঞ্জুমানে তালিমুল কুরআন বাংলাদেশ থেকে কারিয়ানা সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি দেশবরেণ্য কারীদের কাছ থেকে কেরাতের মশক গ্রহণ করেছেন।
ফলে প্রাতিষ্ঠানিক সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ ধরে রেখেছেন। পরিবার থেকেও ছোটবেলা থেকেই তার শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহ উসামা হাসান এবং তার ভাইবোনদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়েছিল মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায়ও তারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দেন।
উসামা সিলেটের একটি সম্ভ্রান্ত, দ্বীনি ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তান। তার বাবা দেশবরেণ্য আলেম, লেখক ও গবেষক মাওলানা শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তার মা লেখিকা ও দাঈ সালমা জাহান ঘোরী।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতা রয়েছে। উসামার বড় ভাই হাফিজ শাহ হাদী হাসান ২০২২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার মেজো ভাই স্থপতি শাহ মাহদী হাসান লিডিং ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট বোন শাহজাদী উমমা একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
শাহ উসামা হাসানের যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি গবেষণার সুযোগ পাওয়ার খবরে তার পরিবারে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা তার এই অর্জনকে পরিবারের পাশাপাশি সিলেটের জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার এই নতুন যাত্রায় শাহ উসামা হাসান যেন সফলভাবে তার গবেষণা সম্পন্ন করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের কল্যাণে জ্ঞান ও গবেষণাকে কাজে লাগাতে পারেন—এ জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা এবং সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি—শাহ উসামা হাসানের এই পথচলা দেশের তরুণদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।